ইসরায়েলি হামলার ভিডিও নিয়ে বিতর্ক: হেলিকপ্টার নাকি মাটিতে আঁকা ছবি?
ইসরায়েলি হামলার ভিডিও নিয়ে বিতর্ক: হেলিকপ্টার নাকি ছবি?

ইসরায়েলি হামলার ভিডিও নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড়

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাম্প্রতিক একটি ভিডিও ঘিরে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটিতে ইরানের দুটি গোপন অবস্থানে হামলা চালিয়ে একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারসহ বেশ কিছু সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করা হয়েছে। তবে, এই ভিডিওটি নিয়ে নেটিজেন এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে: ইসরায়েলি বাহিনী কি সত্যিই ইরানি হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে, নাকি মাটিতে আঁকা একটি ছবির ওপর দামি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে?

ভিডিওর সত্যতা নিয়ে সংশয়

আইডিএফের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে পোস্ট করা ইনফ্রারেড ভিডিওটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পর অনেকেই এর সত্যতা নিয়ে আঙুল তুলছেন। সমালোচকদের মতে, বিস্ফোরণের পর হেলিকপ্টারটি যেভাবে অনড় থেকেছে, তা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। বরং, এটি দেখতে মাটিতে আঁকা হেলিকপ্টারের ত্রিমাত্রিক ছবির মতোই মনে হয়েছে। ভিডিওর নিচে একজন মন্তব্য করেছেন, 'কেন আপনারা নিজেদের লজ্জায় ফেলার মতো এমন একটি পোস্ট করলেন? এটি যদি আসল হেলিকপ্টার হতো, তবে এর ডানাগুলো বোমাবর্ষণের পরও একই রকম থাকত না। আপনারা শুধু একটি ছবির ওপর বোমা মেরেছেন।'

ইরানের নকল লক্ষ্যবস্তুর কৌশল

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান গত কয়েক বছর ধরেই তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে 'ডিকয়' বা নকল লক্ষ্যবস্তু ব্যবহারের কৌশল অবলম্বন করছে। একটি হেলিকপ্টারের আদলে ছবি আঁকতে ইরানের খরচ হয় মাত্র কয়েক ডলার। অথচ, সেই নকল নিশানা ধ্বংস করতে ইসরায়েল যে নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, তার একেকটির দাম প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। এই কৌশলের মাধ্যমে ইরান ইসরায়েলকে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র নষ্ট করতে বাধ্য করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইডিএফের নীরবতা

এই বিতর্ক নিয়ে আইডিএফ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের একটি বড় অংশের দাবি, ইরানের পাতা এক সুনিপুণ ফাঁদে পা দিয়েছে ইসরায়েল। এই ঘটনা সামরিক কৌশল এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যা আন্তর্জাতিক স্তরে নিরাপত্তা বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।