ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান: যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা চলছে, তবে দায়ীদের জবাবদিহি করতে হবে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধে কিছু দেশ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যেকোনও আলোচনার আগে যারা এই যুদ্ধের সূচনা করেছে, তাদের জবাবদিহি করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতি
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। তিনি লিখেছেন, ‘কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, আমরা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে আমাদের জাতির মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না।’
মধ্যস্থতাকারীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা
মধ্যস্থতাকারীদের উদ্দেশে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় অবশ্যই তাদের দিকে নজর দিতে হবে, যারা ইরানি জনগণকে অবমূল্যায়ন করেছে এবং এই সংঘাতের আগুন জ্বালিয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় তারা কোনো ছাড় দেবে না এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
যুদ্ধের সূত্রপাত ও দায় নির্ধারণ
শনিবার ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। তেহরান শুরু থেকেই এই যুদ্ধের জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে দায়ী করে আসছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, এই সংঘাতের মূল কারণ হলো আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং ইরানের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করার প্রচেষ্টা।
পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসর হতে গেলে প্রথমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং যুদ্ধের জন্য দায়ী পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তবে ইরানের দৃঢ় অবস্থান যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।



