ইরানের ড্রোন হামলায় বাহরাইনে অ্যামাজন ডাটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত
বাহরাইনে অ্যামাজন ডাটা সেন্টারে ইরানের ড্রোন হামলা

ইরানের ড্রোন হামলায় বাহরাইনে অ্যামাজন ডাটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের একটি ডাটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজের বরাত দিয়ে এই হামলার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। হামলাটি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

ফারস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহরাইনের অ্যামাজন স্থাপনাটি তেহরানের শত্রুপক্ষের সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমকে সহায়তা করে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানো হয়েছে যাতে শত্রুদের অপারেশনাল কেন্দ্রগুলোকে দুর্বল করা যায়। হামলাটি দুবাইয়ের অ্যামাজন ডাটা সেন্টার এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনায় আইআরজিসির সাম্প্রতিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় সম্পন্ন হয়েছে।

অ্যামাজনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার

অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস গত সোমবার একটি বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের দুটি স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি বাহরাইনে অবস্থিত একটি স্থাপনার খুব কাছাকাছি ড্রোন হামলার কারণে অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, "এই হামলার ফলে কাঠামোগত ক্ষতি সাধিত হয়েছে এবং আমাদের অবকাঠামোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আগুন নেভানোর কাজের জন্য অতিরিক্ত পানি ব্যবহারের কারণে অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মধ্যপ্রাচ্যের প্রসারিত সংঘাত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানী বাহিনী ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে। বর্তমানে ইরান একাই দশটির বেশি দেশের বিরুদ্ধে বীরদর্পে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই হামলার মাধ্যমে ইরান তাদের প্রতিশোধমূলক কৌশলের আরেকটি ধাপ অতিক্রম করেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন। অ্যামাজনের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানির স্থাপনায় হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের হামলা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।