মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে আটকে পড়েছে ৬০টি ফরাসি বাণিজ্যিক জাহাজ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বাহিনীর চলমান সংঘাতের প্রভাবে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অন্তত ৬০টি ফরাসি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছে বলে শুক্রবার (৬ মার্চ) ফ্রান্সের পরিবহণমন্ত্রী ফিলিপ তাবারো নিশ্চিত করেছেন।
জাহাজগুলোর অবস্থান ও সরকারি পদক্ষেপ
ফিলিপ তাবারোর বক্তব্য অনুযায়ী, অবরুদ্ধ জাহাজগুলোর মধ্যে ৫২টি পারস্য উপসাগরে এবং আরও ৮টি লোহিত সাগরে অবস্থান করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ফরাসি সরকার এই জাহাজগুলোর ক্রুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান প্রধান অগ্রাধিকার।
ইরানের সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ফরাসি নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে আপাতত নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে। একইসাথে, ফ্রান্স আন্তর্জাতিক নৌ-জোট গঠনের চেষ্টা করছে সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে, যাতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
বৈশ্বিক প্রভাব ও সামরিক প্রতিক্রিয়া
এই সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে মন্ত্রী সতর্ক করেছেন। এদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর সামরিক উপায়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথগুলো সুরক্ষিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইতোমধ্যে ফ্রান্সের পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি শার্ল দ্য গল এসকর্ট জাহাজসহ ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এয়ার ফ্রান্সের মাধ্যমে দুবাই ও আশপাশের অঞ্চলে আটকে পড়া কয়েক হাজার ফরাসি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ইউরোপীয় মতভেদ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার অভিযানে ব্যস্ত, তখন ফ্রান্স মূলত বাণিজ্যিক স্বার্থ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে আন্তর্জাতিক নৌ-জোট গঠনে নেতৃত্ব দিতে চাইছে। তবে স্পেনসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এই যুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরেও মতভেদ দেখা দিয়েছে।
এই সংকট শুধুমাত্র ফ্রান্সের জাহাজগুলোর জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ফ্রান্সের পদক্ষেপগুলো কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে, তা এখন সবার নজরে।



