ইসরায়েলের বিমান হামলায় তেহরানে আইআরআইবি সদর দপ্তর ও এভিন কারাগার ধ্বংস
ইসরায়েলি হামলায় তেহরানে আইআরআইবি ও কারাগার ধ্বংস

ইসরায়েলি বিমান হামলায় তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরানের রাজধানী তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘আইআরআইবি’-র সদর দপ্তর এবং এভিন কারাগারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় কয়েক ডজন বোমা ফেলে ভবনগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আইডিএফ দাবি করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মতে, আইআরআইবি ভবনটি বেসামরিক প্রচারণার আড়ালে মূলত ইরানের ‘সন্ত্রাসী শাসনের যোগাযোগ কেন্দ্র’ এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-র সামরিক কার্যক্রমের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

হামলার পূর্বে সতর্কতা ও এলাকা ত্যাগের নির্দেশ

হামলার আগে আইডিএফ তাদের আরবি ভাষার মুখপাত্রের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তেহরানের এভিন এলাকা এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকেন্দ্রের আশপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এদিকে, ইরানের রাজধানীর পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের ৩০টি গ্রামেও একযোগে সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েল। লেবাননের টায়ার, মারজায়ুন ও বিনত জবেইলসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আইডিএফ জানিয়েছে।

বিস্ফোরণের শব্দ ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ

আল-জাজিরা অ্যারাবিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, বিশেষ করে একটি টিভি নেটওয়ার্ক এবং কেন্দ্রীয় কারাগার কমপ্লেক্সের কাছে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন মাসের লড়াইয়েও এই আইআরআইবি ভবনটি ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই অবকাঠামোগুলোকে ব্যবহার করে ইরান তাদের সামরিক তৎপরতা এগিয়ে নিচ্ছিল। তবে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন মাত্রা

বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বর্তমানে নতুন এবং ভয়াবহ এক মাত্রায় পৌঁছেছে। ইসরায়েলের এই হামলা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।