দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের তিনটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে প্রায় ১১৯ একর বনভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে এবং প্রায় তিন বছর ধরে ট্রেন চলাচল করছে। কিন্তু বনভূমির ক্ষতিপূরণ বাবদ সাড়ে ৯ কোটি টাকা এখনো বন বিভাগ পায়নি। গত পাঁচ বছরে সাতটি চিঠি দিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ করছে বন বিভাগ।
ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ও বর্তমান অবস্থা
চট্টগ্রাম বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, চট্টগ্রাম অংশে বনভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ নির্ধারণ করা হয় ৮ কোটি ২৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির জন্য আরও ১ কোটি ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ৬৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকায়। এই অর্থ এখনো বন বিভাগকে দেওয়া হয়নি।
রেলওয়ের বক্তব্য
রেলওয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে ৭০০ কোটি টাকা এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করে দেওয়া হয়। এই অর্থের মধ্যে বন বিভাগের ক্ষতিপূরণও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
জেলা প্রশাসনের অবস্থান
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বিষয়টি জানতে নথি দেখার সময় চান। পরে তিনি জানান, ঈদের পর বিষয়টি জানাবেন। অন্যদিকে, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান বলেন, তিনি মাত্র ছয় মাস আগে যোগ দিয়েছেন এবং নথি পর্যালোচনা করে ঈদের পর জানাবেন। পরে তিনি ভূমিসংক্রান্ত জটিলতার কথা উল্লেখ করেন, তবে সার্ভেয়ার ছুটিতে থাকায় বিস্তারিত জানাতে পারেননি।
পরিবেশগত প্রভাব
বন বিভাগ বলছে, এই রেললাইনের কারণে প্রকৃতি সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক জোট কর্তৃক ঘোষিত মহাবিপন্ন হাতির চলাচলের ১৬টি পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া কাটা পড়েছে ২৬টি পাহাড় ও প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার ছোট-বড় গাছ।



