ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানালেন নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি
ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ চাইলেন রেজা পাহলভি

ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানালেন নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি

ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ত্বরান্বিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সামরিক হস্তক্ষেপের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি তুলে ধরেন।

পাহলভির যুক্তি ও দাবি

পাহলভি স্পষ্ট করে বলেন, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য কেবল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা কূটনৈতিক চাপ যথেষ্ট নয়। তার মতে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে সুনির্দিষ্ট সামরিক আঘাত হানা হলে তা ইরানি জনগণকে গণঅভ্যুত্থানে উৎসাহিত করবে এবং একটি গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করবে।

তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ইরানিদের মুক্তি ত্বরান্বিত করা সম্ভব এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি প্রাণহানি রোধ করবে। পাহলভি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "ইরানের জনগণের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় আমেরিকার উচিত সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ইরানের অবস্থান

তবে তার এই আহ্বান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, সামরিক হস্তক্ষেপ ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যকে আরও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ধরনের দাবিকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং ‘বিদেশের মদদে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রত্যাখ্যান করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রেজা পাহলভি অবশ্য এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, তার পরিকল্পনা কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, বরং শাসকগোষ্ঠীর মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য একটি নিয়ন্ত্রিত ও লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক সামরিক পদক্ষেপ। তিনি মনে করেন, ইরানি জনগণ বর্তমানে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলেও বর্তমান সরকারের কঠোর সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর কারণে সফল হতে পারছে না, যেখানে মার্কিন শক্তির সহায়তা একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।

এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যেখানে ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স।