হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান শুরু করতে চলেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই উদ্যোগকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে ইরান।
ট্রাম্পের ঘোষণা
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার (৩ মে) ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সোমবার থেকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প দাবি করেন, কয়েকটি দেশের অনুরোধেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আটকে থাকা জাহাজগুলো ‘নিরপেক্ষ ও নির্দোষ’ এবং তাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও জানান, এই জাহাজগুলোর অনেকটিতেই খাবার এবং বিশাল ক্রু সদস্যদের সুস্থ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসের অভাব দেখা দিচ্ছে।
কঠোর হুঁশিয়ারি
তিনি সতর্ক করে দেন, এই অভিযানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হলে তা দুর্ভাগ্যবশত কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। যদিও ট্রাম্প এই উদ্যোগকে ‘মানবিক পদক্ষেপ’ হিসেবে তুলে ধরেছেন, তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বা ইরানের সঙ্গে কোনো সমন্বয় থাকবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে গত ৭ এপ্রিল থেকে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো মার্কিন হস্তক্ষেপ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর কোনো কাল্পনিক ঘোষণায় পরিচালিত হবে না।’
সেন্টকমের ভূমিকা
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার থেকে তারা ওই জলপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সহায়তা দেওয়া শুরু করবে। সেন্টকম কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বলেন, এই প্রতিরক্ষামূলক মিশন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সেন্টকম।
এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, সংকীর্ণ এই জলপথে জাহাজ পাহারা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা সরাসরি প্রস্তুত নয়, কারণ ইরানি ভূখণ্ড থেকে হামলার ঝুঁকি রয়েছে।



