পলিটিকো ও টেলিগ্রাফের মালিকের নির্দেশ: ইসরায়েল সমর্থন না করলে পদত্যাগ
পলিটিকো-টেলিগ্রাফের মালিকের নির্দেশ: ইসরায়েল সমর্থন না করলে পদত্যাগ

বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’ ও ‘টেলিগ্রাফ’-এর মালিকানা প্রতিষ্ঠান এক্সেল স্প্রিঞ্জারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিয়াস ডফনার এক বিতর্কিত নির্দেশনায় জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের অবশ্যই ইসরায়েলকে সমর্থন করতে হবে, অন্যথায় তাদের পদত্যাগ করা উচিত। এই ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যম দুটির সম্পাদকীয় স্বাধীনতা চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাংবাদিকদের প্রতিবাদ

গত সোমবার পলিটিকোর সাংবাদিকদের সঙ্গে এক উত্তপ্ত বৈঠকে ডফনার স্পষ্ট করে বলেন, ইসরায়েলকে সমর্থন করা তাদের প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মূল ভিত্তি। বৈঠকে ডফনারের রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রচারের অভিযোগ তুলে নবনিযুক্ত সম্পাদক জোনাথন গ্রিনবার্গের কাছে একটি চিঠি পাঠান সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, ডফনারের সাম্প্রতিক মতামতগুলো একটি নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম হিসেবে পলিটিকোর সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসেই ডেইলি টেলিগ্রাফ অধিগ্রহণের অনুমোদন পেয়েছে এক্সেল স্প্রিঞ্জার। এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের ভয়, ওপর মহলের এই আদর্শিক চাপ ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের কাভারেজকে একপাক্ষিক করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ মোকাবিলা করছে ইসরায়েল, যেখানে এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৫৯৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৪১১ জন আহত হয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডফনারের অবস্থান অনড়

ডফনার অবশ্য তার অবস্থানে অনড়। তিনি ইসরায়েলকে সমর্থন করাকে তার কোম্পানির পাঁচটি মূল নীতির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বাধীনতা, মুক্ত বাজার ও বাকস্বাধীনতা। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি এই নীতিগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তবে এটি আমাদের মৌলিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত। যারা আমাদের এই বিশ্বাসের সঙ্গে একমত নন, এক্সেল স্প্রিঞ্জার তাদের জন্য সঠিক জায়গা কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

‘সবার উপরে জায়নবাদ’

জার্মানির রুপার্ট মারডক হিসেবে পরিচিত ডফনারের পূর্বের কর্মকাণ্ডও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত বছর একটি ফাঁস হওয়া ইমেইলে তিনি নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস সংক্ষেপে লিখেছিলেন, ‘জায়নবাদ সবার উপরে। ইসরায়েল আমার দেশ।’ জার্মানিতে ‘উবার অ্যালেস’ (সবার উপরে) শব্দবন্ধটি অত্যন্ত বিতর্কিত, কারণ নাৎসি আমলে জাতীয় সংগীতে এটি ব্যবহার করা হতো। গত অক্টোবরে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ডফনারকে সম্মানসূচক পদকও প্রদান করেন।

ইরান ইস্যুতে বিতর্ক

বৈঠকে ইরান ইস্যুতে ডফনারের লেখা একটি কলামের তথ্যপ্রমাণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাংবাদিকরা। ওই লেখায় ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী ও ‘আক্রমণকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এর সপক্ষে প্রমাণ চাওয়া হলে ডফনার ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘ইরান কয়েক দশক ধরে আক্রমণকারী এবং তারা পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে, এটি ধ্রুব সত্যের মতো স্পষ্ট। এর জন্য কোনও আলাদা প্রমাণের দরকার নেই।’ যদিও ইরান সব সময় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।

আবার ডফনার আমেরিকাকে বিশ্বের ‘বৃহত্তম গণতন্ত্র’ বললেও ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতকেই সাধারণত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ডফনার শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের লেখা কমানো তো দূরে থাক, আরও বেশি করে লিখবেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই