ইরির বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই প্রকৃতির বিরূপ আচরণে
ইরির বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে ইরি (বোরো) ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে ব্রি-২৮, ব্রি-২৯ ও ব্রি-৫০ জাতের ধানের উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। তবে ভালো ফলনের এ আনন্দে ভাটা পড়েছে প্রকৃতির বিরূপ আচরণে।

প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফসল কাটায় বিঘ্ন

হঠাৎ টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান কাটতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

উপজেলার ভাটেরচর এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন, রমিজ উদ্দিন ও গিয়াসউদ্দিন জানান, এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধির কারণে সময়মতো ধান কাটতে পারছি না। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না, আর পেলেও মজুরি অনেক বেশি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধি

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, আগে যেখানে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি নির্দিষ্ট ছিল, বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। তবুও শ্রমিকের অভাবে ধান কাটার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কৃষক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজের গতি খুবই ধীর।

কৃষকদের আশঙ্কা, সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে টানা বৃষ্টির কারণে জমিতে থাকা ধান অঙ্কুরিত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা ফলনের বড় অংশ নষ্ট করে দিতে পারে।

কৃষি বিভাগের তথ্য

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক জানান, চলতি মৌসুমে গজারিয়া উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে ইরি ধানের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সেচ ব্যবস্থার কারণে ফলন ভালো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে কিছুটা সমস্যায় পড়ছেন।

এ অবস্থায় কৃষকরা দ্রুত আবহাওয়ার উন্নতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ