লেবাননে ইসরায়েলি সৈন্যদের যিশুর মূর্তি ভাঙচুর: দুই সৈন্য শাস্তি, নেতানিয়াহু দুঃখ প্রকাশ
লেবাননে ইসরায়েলি সৈন্য যিশুর মূর্তি ভাঙচুর, শাস্তি

লেবাননে ইসরায়েলি সৈন্যদের যিশুর মূর্তি ভাঙচুর: দুই সৈন্য শাস্তি, নেতানিয়াহু দুঃখ প্রকাশ

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের দেবল গ্রামে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় ক্রুশবিদ্ধ যিশুর একটি মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সৈন্যকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূর্তি ভাঙচুরকারী সৈন্য এবং ঘটনার ছবি তোলা সৈন্য—উভয়কেই ৩০ দিনের সামরিক আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। শাস্তিপ্রাপ্ত দুই সৈন্যের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে আইডিএফ স্পষ্ট করে বলেছেন, তদন্ত শেষে তাদের ‘যুদ্ধের দায়িত্ব’ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

আরও ছয় সৈন্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

এ ঘটনায় আরও ছয় ইসরায়েলি সৈন্যের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইডিএফের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সৈন্যরা যিশুর মূর্তি ভাঙচুরের সময় বাধা না দেওয়া বা হস্তক্ষেপ না করায় এবং ঘটনার রিপোর্ট না করার অভিযোগের মুখে পড়েছেন। ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, এক ইসরায়েলি সৈন্য একটি ভারী হাতুড়ি দিয়ে ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তির মাথায় আঘাত করছে, যার ফলে মূর্তিটি ক্রুশ থেকে খুলে পড়ে যায়।

নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক নিন্দা

ঘটনাটি এ সপ্তাহের শুরুতে অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘটনায় ‘স্তম্ভিত ও দুঃখিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে, তা দেখে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।’ এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল–বিষয়ক রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি গত সোমবার এ ঘটনার নিন্দা জানান এবং ‘এই আপত্তিকর ঘটনার পর দ্রুত, কঠোর এবং প্রকাশ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণের আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইডিএফের তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ

আইডিএফের মঙ্গলবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনার তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে ‘ওই সৈন্যদের আচরণ আইডিএফের নির্দেশনা ও মূল্যবোধ থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্যুত ছিল।’ সংস্থাটি ঘটনার জন্য ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেছে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে ‘সম্পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে’ ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তিটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। আইডিএফ জোর দিয়ে বলেছে, লেবাননে তাদের অভিযান ‘শুধু’ ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ‘অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর’ বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে; লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে নয়।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও মানবাধিকার উদ্বেগ

দেবল গ্রামের প্রধান ধর্মযাজক ফাদার ফাদি ফ্লাইফেল ঘটনার পর বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা ক্রুশসহ আমাদের পবিত্র সব প্রতীক এবং সব ধর্মীয় প্রতীকের অবমাননাকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করি। এটি মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং এমন আচরণ সভ্যতাকে প্রতিফলিত করে না।’ স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, দেবলের প্রান্তে একটি বাড়ির বাইরে ক্রুশবিদ্ধ ওই যিশুর মূর্তিটি স্থাপন করা ছিল। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত চলাকালে যে কয়টি গ্রামে মানুষ থেকে গেছে, দেবল তার মধ্যে একটি।

এই ঘটনা লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আরও জটিলতা তৈরি করেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে। আইডিএফের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং নেতানিয়াহুর দুঃখ প্রকাশ সত্ত্বেও, স্থানীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।