লেবাননে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলের পরিকল্পিত ভবন ধ্বংস: হারেৎজ প্রতিবেদন
লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চালু থাকলেও দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পরিকল্পিতভাবে ভবন ধ্বংস করে চলেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা টাইমস অব ইসরায়েলের মতো অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও প্রতিফলিত হয়েছে।
বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু
আইডিএফ-এর বেশ কয়েকজন কমান্ডার হারেৎজ-কে জানিয়েছেন যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তৈরি বাফার জোন বা নিরাপদ বেষ্টনী এলাকার ভেতরে অবস্থিত বেসামরিক ঘরবাড়ি, সরকারি ভবন এবং স্কুলগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ এইসব বেসামরিক অবকাঠামো অস্ত্র মজুত এবং সুড়ঙ্গ তৈরির কাজে ব্যবহার করছে।
তবে হারেৎজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আইডিএফ হিজবুল্লাহর স্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের বসতির মধ্যে কোনও পার্থক্য করছে না। এর ফলে পুরো শহর মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
বেতনভুক্ত ঠিকাদারদের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য 'বেতনভুক্ত' বেসরকারি ঠিকাদারদের নিয়োগ করা হয়েছে। আইডিএফ কমান্ডারদের ভাষ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে কতগুলো ভবন ধ্বংস করা হলো, তার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এসব ঠিকাদারকে পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে। এই পদ্ধতি ধ্বংসের গতি ও পরিধি বাড়িয়ে তুলছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গাজা নীতির প্রয়োগ লেবাননে
কমান্ডারদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ক্ষেত্রে ইসরায়েল এখন গাজা উপত্যকার নীতি লেবাননেও প্রয়োগ করছে। একজন কমান্ডার হারেৎজকে জানান যে, এই ধ্বংসযজ্ঞের মূল লক্ষ্য হলো সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ফিরে আসা অসম্ভব করে তোলা।
গত মাসে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই ধ্বংসযজ্ঞ নীতির বর্ণনা দিয়ে বলেছিলেন যে, সীমান্তের হুমকি চিরতরে দূর করতে লেবানন সীমান্তের গ্রামগুলোর সব ঘরবাড়ি গাজার রাফাহ এবং বেইত হানুন মডেল অনুযায়ী ধ্বংস করা হবে। এই বক্তব্য ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলকে নির্দেশ করে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।



