যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস (মেট অফিস)-এর বিজ্ঞানীরা ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক গ্রীষ্মকালীন তীব্র তাপপ্রবাহের ৫০ বছর পূর্তিতে একটি নতুন জলবায়ু মডেল তৈরি করেছেন। ‘পসিবল ২০৫৬ সিনারিও’ বা ২০৫৬ সালের সম্ভাব্য রূপরেখা নামের এই মডেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের চরম তাপপ্রবাহের প্রভাব কেমন হতে পারে, তা পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তাপমাত্রা কত বাড়তে পারে?
বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার যদি ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, তবে সেই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকতে পারে। একই সাথে যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অংশ যেমন—ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে তাপমাত্রা যথাক্রমে ৪১ ডিগ্রি, ৩৮ ডিগ্রি এবং ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের আশঙ্কা
এই রূপরেখা অনুযায়ী, একটি দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ টানা দুই সপ্তাহ বা ১৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যার মধ্যে টানা নয় দিনই তাপমাত্রা থাকবে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে।
বিশেষজ্ঞের মতামত
মেট অফিসের অধ্যাপক স্টিফেন বেলচার এই বিষয়ে বলেন, “যুক্তরাজ্যে আবহাওয়া নিয়ে আলোচনা একটি জাতীয় অভ্যাসের মতো এবং ১৯৭৬ সালের সেই তীব্র গ্রীষ্মের স্মৃতি এখনো অনেকের মনে গেঁথে আছে। তবে সেই সময়ের পর থেকে বর্তমান জলবায়ুর মৌলিক পরিবর্তন ঘটেছে এবং যুক্তরাজ্যের গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে প্রায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, গড় তাপমাত্রার পাশাপাশি চরম আবহাওয়ার তীব্রতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে।”
এটি একটি পূর্বাভাস নয়, সম্ভাব্য রূপরেখা
তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে এটি নিশ্চিতভাবে ঘটবে এমন কোনো আবহাওয়ার পূর্বাভাস নয়। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা বজায় থাকলে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ২০৫৬ সালের দিকে এমন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হওয়া সম্পূর্ণভাবে সম্ভব, গবেষকরা মূলত সেই রূপরেখাটিই তুলে ধরেছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।



