উনবিংশ শতাব্দীতে মানচিত্র থেকে হারিয়ে গিয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ার এক বিশাল লেক। দীর্ঘ ১৩০ বছর পর সেই লেক আবার দৃশ্যমান হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোয়াকুইন ভ্যালিতে অবস্থিত টুলারে লেক একসময় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম মিঠাপানির আধার ছিল। তবে কৃষিজমির লোভে একসময় উপনিবেশবাদীরা এর পানি শুকিয়ে ফেলে লেকটিকে মৃত ঘোষণা করেছিল। ২০২৩ সালে বিস্ময়করভাবে লেকটি পুনরায় ফিরে এসেছে।
গবেষণার ফলাফল
নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষক ভিভিয়ান আন্ডারহিল জানান, উনবিংশ শতাব্দীতে টুলারে লেক ১৬০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এবং ৫০ কিলোমিটার চওড়া ছিল। এটি ছিল মিসিসিপি নদীর পশ্চিমে অবস্থিত বৃহত্তম মিঠাপানির আধার। একুশ শতকের শুষ্ক সান জোয়াকুইন ভ্যালির দৃশ্যপট দেখে ওই অঞ্চলে একসময় এমন বিশাল জলাশয় ছিল তা বিশ্বাস করা প্রায় অসম্ভব।
লেক বিলুপ্তির কারণ
গবেষকরা জানান, মূলত মানুষের তৈরি সেচ ব্যবস্থার কারণেই এই লেক এবং এর সঙ্গে যুক্ত জলপথগুলো বিলীন হয়ে গিয়েছিল। সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালার বরফ গলা পানি ছিল এর প্রধান উৎস। আন্ডারহিল বলেন, বর্তমানের ফ্রেসনোতে তেমন বৃষ্টি না হলেও ১৮০০-এর দশকে এটি ছিল লেকতীরের শহর। তার গবেষণা অনুযায়ী, ১৮৫০ ও ১৮৬০-এর দশকের শেষের দিকে লেকটি শুকিয়ে যেতে শুরু করে। ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য তখন আদিবাসীদের ভূমি দখল করে ব্যক্তিগত মালিকানায় দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। আন্ডারহিল বলেন, যিনি জমি থেকে পানি সরিয়ে শুকিয়ে ফেলতে পারতেন তাকে ওই জমির মালিকানা দেওয়া হতো। যা জমি দখলের বড় প্রলোভন হয়ে দাঁড়ায়। ১৮৯০ সালের মধ্যে লেকটি পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়।
লেকের পুনরাবির্ভাব
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৩ সালে শীতকালীন তুষারপাত এবং বসন্তের বৃষ্টির কারণে টুলারে লেক আবার ফিরে আসে। আন্ডারহিল ব্যাখ্যা করেন, ভারী বৃষ্টি ও বরফ দ্রুত গলে গিয়ে ওই নিচু ভূমিতে জমা হয় যা একসময় লেকের গর্ভ ছিল। লেকের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পেলিক্যান, বাজপাখি ও বিভিন্ন জলচর পাখির মেলা বসেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় থাকা গর্তে বাস করা পেঁচাদেরও লেকতীরে বাসা বাঁধতে দেখা গেছে। ফিরে এসেছে বিভিন্ন মাছ ও উভচর প্রাণীও।
বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে লেকটি সংকুচিত হয়ে মাত্র ২ হাজার ৬২৫ একরে এসে ঠেকেছে। কর্তৃপক্ষ আবারও পানি সরিয়ে এটি শুকিয়ে ফেলার চেষ্টা শুরু করেছে। সূত্র: উইয়ন নিউজ



