হান্তাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া একটি ডাচ প্রমোদতরী ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফে নোঙর করার অনুরোধ জানিয়েছিল, কিন্তু ক্যানারি দ্বীপ কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের নেতা ফার্নান্দো ক্লাভিজো এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
ফার্নান্দো ক্লাভিজোর বক্তব্য
রেডিও স্টেশন কোপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফার্নান্দো ক্লাভিজো বলেন, “এই সিদ্ধান্ত কোনও প্রকার প্রযুক্তিগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। এমনকি, জনসাধারণকে আশ্বস্ত করার বা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য আমাদের কাছে নেই।” তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে আমি প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছি।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ক্লাভিজো একটি জোট সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যেখানে রক্ষণশীল পিপলস পার্টি রয়েছে—যা সানচেজের সমাজতান্ত্রিক দলের প্রধান বিরোধী দল। এর আগে, স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম টিভিই দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল, প্রমোদতরীটি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফে নোঙর করবে।
চিকিৎসক দলের পরিকল্পনা
প্রমোদতরীটিতে দু’জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উঠবেন বলে জানিয়েছে জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশন। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, নেদারল্যান্ডস থেকে দু’জন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জাহাজে উঠবেন এবং কেপ ভার্দে থেকে নির্ধারিত প্রস্থানের পরও জাহাজটির সঙ্গে থাকবেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই চিকিৎসকেরা কেবল তখনই জাহাজে উঠবেন যখন তিনজন ব্যক্তিকে সফলভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে, যাদের মধ্যে দু’জন হান্তাভাইরাসের ‘তীব্র উপসর্গে’ ভুগছেন।
জাহাজের বর্তমান অবস্থা ও সতর্কতা
বর্তমানে ২৩ দেশের ১৪৯ জন যাত্রী নিয়ে জাহাজটি কেপ ভার্দে উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। সংক্রমণ এড়াতে ইঁদুরের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা এবং ঘরবাড়ি পরিষ্কারের সময় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। হান্তাভাইরাস মূলত ইঁদুরবাহিত একটি ভাইরাস। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্যমতে, ইঁদুরের প্রস্রাব, লালা বা বিষ্ঠা শুকিয়ে বাতাসে মিশে গেলে এবং নিশ্বাসের মাধ্যমে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে এই সংক্রমণ ঘটে। বিরল ক্ষেত্রে ইঁদুরের কামড় বা আঁচড় থেকেও এটি ছড়াতে পারে।



