রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৪ জন নিহত এবং ৭০৯ জন আহত হয়েছেন। এই সময়ে মোট ৪৬৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ৫৩ জন নারী এবং ৪৮ জন শিশু রয়েছেন।
মোটরসাইকেল ও পথচারীদের মৃত্যু সবচেয়ে বেশি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪২টি ঘটনায় ১১৩ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ২৭.৯৭ শতাংশ। পথচারীদের মধ্যে ১০২ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ২৫.২৪ শতাংশ। এছাড়া ৪৬ জন চালক ও সহযোগী নিহত হয়েছেন, যা ১১.৩৮ শতাংশ।
ঢাকায় ৩৬ দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত
রাজধানী ঢাকায় ৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আঞ্চলিক সড়কে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪১.৬৮ শতাংশ দুর্ঘটনা আঞ্চলিক সড়কে এবং ৩৬.২৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে। ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১০৯টি দুর্ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ
গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানো দুর্ঘটনার প্রধান কারণ, যা ১৯৪টি ঘটনার (৪১.৯০ শতাংশ) জন্য দায়ী। মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯৭টি দুর্ঘটনা (২০.৯৫ শতাংশ) ঘটেছে।
যানবাহনের ধরন ও মৃত্যু
মোটরসাইকেল আরোহীদের মৃত্যু সর্বোচ্চ ১১৩ জন। সিএনজি অটোরিকশা ও ইজিবাইকে ৬১ জন, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে ৫১ জন, বাসে ৩০ জন এবং প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে ২৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিক্ষক, সাংবাদিক, পুলিশ, ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, এনজিও কর্মী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। মোট ৪৯ জন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রধান কারণ ও সুপারিশ
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন দুর্বল প্রয়োগকে চিহ্নিত করেছে। এছাড়া চালকদের অনিয়ন্ত্রিত কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে ধীর ও দ্রুতগামী যানবাহনের মিশ্রণ এবং তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেল ব্যবহার বৃদ্ধিও সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, পরিবহন কর্তৃপক্ষ শক্তিশালীকরণ, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।



