ঈদের ছুটি ও টানা বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন রাজধানী ঢাকার বায়ুর মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেলেও বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় আবারও দূষণের মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) অনুযায়ী ঢাকার স্কোর ছিল ১০৭। এ স্কোর নিয়ে বিশ্বের ১২৭টি প্রধান দূষিত শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান নবম।
একিউআই সূচকে ঢাকার বর্তমান অবস্থা
একিউআই অনুযায়ী শহরটির বায়ুমান 'অস্বাস্থ্যকর' পর্যায়ে রয়েছে। তালিকায় ২৭৩ স্কোর নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনসাসা। দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের স্কোর ১৬৩ এবং তৃতীয় স্থানে চিলির সান্তিয়াগোর স্কোর ১৫৬। এছাড়া ভারতের কলকাতা ও পাকিস্তানের লাহোর যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
বায়ুদূষণ কমার কারণ ও পুনরায় বৃদ্ধি
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের সময় রাজধানীতে যানবাহন চলাচল ও নির্মাণকাজ কমে যাওয়ার পাশাপাশি টানা বৃষ্টির কারণে বাতাসে থাকা ধুলাবালি ধুয়ে যায়। ফলে সাময়িকভাবে বায়ুদূষণের মাত্রা কমে আসে। তবে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় দূষণ আবার বাড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
একিউআই সূচকের বিভিন্ন স্তর
একিউআই সূচক অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ স্কোর থাকলে তখন বায়ুর গুণমানকে 'মাঝারি' বলে বিবেচনা করা হয়। একিউআই সূচক ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় সাধারণত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে হলে 'অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে বিবেচিত হয়, ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে হলে 'খুব অস্বাস্থ্যকর' বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া ৩০১ এর বেশি হলে 'বিপজ্জনক' হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
সতর্কতা ও পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই তাদের প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



