ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শুক্রবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। এ ছাড়া শহরের অন্তত ২৫টি স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব
ঘূর্ণিঝড়ের বেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার। উপড়ে পড়া গাছ বিভিন্ন এলাকায় গাড়ির ওপর পড়ে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হুগলি নদীর প্রিন্সেপ ঘাটের রেললাইনের ওপর একটি গাছ ভেঙে পড়লে রেললাইনের তারে আগুন ধরে যায়। ওই এলাকায় একটি আমগাছ থেকে রাস্তায় ঝরে পড়া আম কুড়াতে গিয়ে এক ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তাঁর পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। রেলের চিকিৎসকেরা তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন।
যান চলাচল ব্যাহত
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে লেন্স ডাউন, মুদিয়ালী, সল্টলেক, সাউদার্ন অ্যাভিনিউ, হরিস মুখার্জী রোড, ময়দান, রফি আহমেদ কিদোয়াই রোড, পাতিপুকুর, কাঁকুড়গাছি, খিদিরপুর, পিজি হাসপাতাল, হাইল্যান্ড পার্ক, প্রিন্সেপ ঘাট, লেক গার্ডেন্স ও টালা পার্ক এলাকায় গাছ ভেঙে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
শিয়ালদহ-বনগাঁ লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। কলকাতা বিমানবন্দরে পানি জমে যাওয়ায় বিমানের ওঠানামা এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকে। বিভিন্ন এলাকার রেললাইনে পানি জমে যায়।
রাস্তায় পানি জমা
ঝড়বৃষ্টির কারণে পিজি হাসপাতাল সড়কসহ আম হার্টস্টিটে পানি জমে যায়। হরিস মুখার্জী রোডে গাছ ভেঙে একটি গাড়ির ওপর পড়লে গাড়িটি ভেঙে যায়, তবে চালক দ্রুত গাড়ি থেকে বের হয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। যাদবপুরে ট্রাফিক সিগন্যালের পোস্ট ভেঙে পড়ে।
উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজ
কলকাতা শহরে উপড়ে পড়া গাছ সরাতে বিপর্যয় মোকাবিলা দল কাজ শুরু করেছে। কর্মীরা গাছ কাটার করাত দিয়ে বড় বড় গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করছেন। কলকাতা পুরসভা জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প মেশিন চালু করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে।



