আগামী ৫ বছরে বৈশ্বিক তাপমাত্রায় নতুন রেকর্ডের শঙ্কা
আগামী ৫ বছরে বৈশ্বিক তাপমাত্রায় নতুন রেকর্ড

আগামী ৫ বছরে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রায় নতুন রেকর্ড হতে পারে। যদি রেকর্ড নাও ভাঙে তবুও বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। একইসঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলের তাপমাত্রা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আরও দ্রুত বাড়বে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা ডব্লিউএমও ও যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদফতর। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) যৌথভাবে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। খবর রয়টার্সের।

বর্তমান তাপমাত্রার অবস্থা

তাপমাত্রা নথিভুক্ত করার পর থেকে ২০২৪ সালটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। বছরটিতে শিল্প–পূর্ব সময়ের গড় তাপমাত্রার চেয়ে এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। কিন্তু, আগামী পাঁচ বছরে শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় এক দশমিক তিন থেকে এক দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞানী মেলিসা সিব্রুক রয়টার্সকে বলেন, “জলবায়ু যে উষ্ণ হয়ে উঠছে এবং বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা যে ক্রমাগত বাড়ছে, তার খুবই স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্যারিস চুক্তির সীমা

২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে বিশ্ব সরকারগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার চেষ্টা করবে। কারণ, এই সীমা অতিক্রম করলে ভয়াবহ জলবায়ুগত দুর্যোগগুলোর তীব্রতা আরও বাড়বে বলে মনে করা হয়।

২০২৪ সালের রেকর্ড ভাঙার শঙ্কা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত এক বছরের জন্য বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১৮৫০-১৯০০ সালের গড় তাপমাত্রার তুলনায় এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে কোনও এক বছরে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা রেকর্ডে থাকা সবচেয়ে উষ্ণ বছর ২০২৪ সালকেও ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৪ সালেই প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়েছিল।

সিব্রুক বলেন, “এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রম করা মানেই প্যারিস চুক্তি ব্যর্থ হয়েছে—এমন নয়। কারণ, এই চুক্তিতে এক বছরের তাপমাত্রা নয়, বরং ২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি গড় তাপমাত্রাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “বিশ্ব যতই এই সীমার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে, ততই এটি আরও ঘন ঘন অতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। বিজ্ঞান খুব স্পষ্টভাবে বলছে, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রির মধ্যে ধরে রাখার সুযোগ দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে।”

আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির শঙ্কা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে উত্তর গোলার্ধের আর্কটিক অঞ্চলের শীতকালীন তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় সাড়ে তিন গুণেরও বেশি হারে বাড়তে পারে। এ সময়ে ১৯৯১-২০২০ সালের ভিত্তিমাত্রার তুলনায় তাপমাত্রা প্রায় দুই দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

আগামী অর্ধদশকে ব্যারেন্টস সাগর, বেরিং সাগর এবং ওখোৎস্ক সাগরের আর্কটিকের সমুদ্রবরফ গলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিব্রুক বলেন, “আর্কটিক অঞ্চলের উষ্ণতা বৃদ্ধি আবহাওয়া ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে এবং বিশেষ করে বিশ্বের উত্তরাঞ্চলগুলোতে আরও ভয়াবহ আবহাওয়া পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।”

বৃষ্টিপাত ও শুষ্কতার পূর্বাভাস

আগামী পাঁচ শীতে উত্তর গোলার্ধে বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মে থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে উত্তর ইউরোপ, আলাস্কা, সাইবেরিয়া ও সাহেল অঞ্চলে আর্দ্র আবহাওয়া থাকতে পারে। বিপরীতে, একই সময়ে আমাজন অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সিব্রুক বলেন, “চলতি বছরের শীত মৌসুমে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এটি বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।” এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা পর্যায়ক্রমিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, যা সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়।