চিলিতে ৬.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামির আশঙ্কা নেই
চিলিতে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির আশঙ্কা নেই

চিলির উত্তরাঞ্চলীয় আন্তোফাগাস্তা এলাকায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে কালামা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে এই কম্পন অনুভূত হয়। চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সেন্টার ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.৮ নিশ্চিত করেছে।

প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি

প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। চিলির কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সুনামি সতর্কতা

ভূমিকম্পের পর চিলির হাইড্রোগ্রাফিক অ্যান্ড ওশেনোগ্রাফিক সার্ভিস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের বৈশিষ্ট্যের কারণে চিলির উপকূলরেখায় সুনামি আঘাত হানার কোনো আশঙ্কা বা হুমকি নেই। ফলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট

চিলি প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ারের ওপর অবস্থিত, যা বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকম্প অঞ্চলগুলোর একটি। এখানে নাজকা এবং দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে প্রায়ই ভূমিকম্প ঘটে। ঐতিহাসিকভাবে চিলি ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ।

ঐতিহাসিক ভূমিকম্প

১৫৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত চিলিতে প্রায় ১০০টি বড় ভূমিকম্প হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৩০টি ছিল ৮.০ মাত্রার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গড়ে প্রতি দশকে অন্তত একবার ৮.০ বা তার চেয়ে বড় মাত্রার একটি প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্প আঘাত হানে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ১৯৬০ সালের ভূমিকম্প: ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি হয়েছিল ১৯৬০ সালে চিলির ভালদিভিয়া এলাকায়, যার মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫। সেই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ১০ মিটার উঁচু সুনামির ঢেউ চিলির দক্ষিণাঞ্চল ধ্বংস করে প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে জাপানেও আঘাত হানে। চিলিতে প্রায় ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
  • ২০১০ সালের ভূমিকম্প: ২০১০ সালে দেশটির মাউলে উপকূলে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি বড় ভূমিকম্প ও সুনামিতে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।
  • ১৯৩৯ সালের ভূমিকম্প: চিলির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্পটি হয়েছিল ১৯৩৯ সালের ২৪ জানুয়ারি রাতে। ৮ দশমিক ৩ মাত্রার সেই চিলান ভূমিকম্পে পুরো শহরের অর্ধেকেরও বেশি ভবন ধসে পড়ে এবং যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সরকারি হিসাবে সে শহরের প্রায় ২৪ হাজার মানুষ মারা যান, যদিও বেসরকারি ধারণায় এই প্রাণহানির সংখ্যা ৩০ হাজার পর্যন্ত বলা হয়ে থাকে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি