জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে নতুন ভাবনা ও উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ঠিক সেই সময়ে কক্সবাজারে তরুণীদের সৃজনশীল চিন্তা ও নেতৃত্বের এক অনন্য মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হলো। আমাল ফাউন্ডেশনের ক্লাইমেট হ্যাকাথন তরুণীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতার প্রদর্শনীতে পরিণত হয়।
ক্লাইমেট হ্যাকাথনের আয়োজন
ক্লাইমেট ক্যাটালিস্ট ফেলোশিপ ফর গার্লস কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমাল ফাউন্ডেশন এবং ফিউচার রুটস: ক্লাইমেট হাব ফর ইয়ুথের উদ্যোগে বুধবার (২১ মে) কক্সবাজারের হোটেল সী মুনে এই হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত তরুণীরা জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের সৃজনশীল ও বাস্তবসম্মত প্রকল্প উপস্থাপন করেন।
উদ্বোধনী ও অতিথি বক্তব্য
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আমাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইশরাত করিম। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় তরুণী ও নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ অত্যন্ত জরুরি। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও মানবিক নেতৃত্বে গড়ে তুলতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজাহার উদ্দিন এবং ইউএন উইমেন কক্সবাজার সাব-অফিসের হেড সিলিয়া রাজেন্দার। অতিথিরা জলবায়ু অভিযোজনে তরুণদের সম্পৃক্ততা ও নারীর নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রকল্প উপস্থাপন ও মূল্যায়ন
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সামিরা মেহনাজ ও লামিয়া মাইশা। হ্যাকাথনে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তারা প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করেন। অংশগ্রহণকারী ফেলোরা পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, টেকসই জীবিকায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স বিষয়ে উদ্ভাবনী প্রকল্প তুলে ধরেন। তরুণীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বিজয়ী প্রকল্প ও পুরস্কার
প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা বিবেচনায় বিচারকমণ্ডলী পাঁচটি প্রকল্পকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। নির্বাচিত প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা দিতে আমাল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয় এবং বিজয়ীদের হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেওয়া হয়।
সমাপনী ও উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্যে ইশরাত করিম বলেন, তরুণদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতাই ভবিষ্যতের জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ক্লাইমেট হ্যাকাথনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।



