লোকসভায় ভোটে মোদি সরকারের বড় পরাজয়, নারী কোটা ও আসন বৃদ্ধির বিল বাতিল
ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পরাজয় হয়েছে। নারী আসন সংরক্ষণ এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির সংশোধনী বিল লোকসভায় পাশ হতে ব্যর্থ হয়েছে। শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, লোকসভায় অনুষ্ঠিত ভোটে বিলটির পক্ষে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় এটি বাতিল হয়ে যায়। এই ঘটনা সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভোটের ফলাফল ও বিলের উদ্দেশ্য
জানা গেছে, বিলটির পক্ষে ২৯৮ জন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন, অন্যদিকে বিপক্ষে ভোট পড়েছে ২৩০টি। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় বিলটি বাতিল হয়েছে। এই বিলটি ২০২৯ সাল থেকে আইনসভায় নারী কোটা কার্যকর করা এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রস্তাব করা হয়েছিল। এটি ভারতের রাজনৈতিক কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
সরকারের প্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য বিল প্রত্যাহার
বিলটি পাশ না হওয়ার পর, কেন্দ্রীয় সরকার সংশ্লিষ্ট আরও দুটি বিল থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, তারা এই সংক্রান্ত অন্য দুটি বিল নিয়ে আর অগ্রসর হবে না। সরকারের মতে, এই বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করা সম্ভব নয়, যা বিলের ব্যর্থতাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিলটি পাশ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্কারে ঐকমত্য গড়ে তোলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।" তার মন্তব্যে সরকারের এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থনের অভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বিরোধী দলের অবস্থান ও রাজনৈতিক বিতর্ক
বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী লোকসভায় তার বক্তব্যে সরকারের এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই বিলটির সঙ্গে নারী সংরক্ষণের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এটি দেশের নির্বাচনি মানচিত্র বদলের একটি প্রচেষ্টা মাত্র। রাহুল গান্ধী বলেন, "দক্ষিণ ভারত, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ছোট রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কেড়ে নেওয়ার এই চেষ্টা একটি 'দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড' ছাড়া আর কিছুই নয়।"
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিতর্কের জবাবে বলেছেন, ভোটার ও সংসদ সদস্যদের অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ থেকে বঞ্চিত করেছিল এবং এখনও একই অবস্থান বজায় রেখেছে।
এই বিলের ব্যর্থতা ভারতের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এটি সরকারের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, যেখানে বিরোধী দলগুলি তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলোর ভাগ্য কী হবে, তা এখনই অনুমান করা কঠিন।



