রাজীব গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগঘন বার্তা রাহুলের
রাজীব গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগঘন বার্তা রাহুলের

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বাবার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেছেন, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ ভারত গড়ার যে স্বপ্ন রাজীব গান্ধী দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

বীর ভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিল্লির বীর ভূমিতে গিয়ে বাবার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাহুল গান্ধী। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবি প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি শেয়ার করেন একটি পুরোনো ও অপ্রকাশিত ছবি, যেখানে রাজীব গান্ধীর পাশে ছোট্ট রাহুলকে দেখা যায়।

রাহুলের বার্তা

ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় রাহুল লেখেন, ‘বাবা, তুমি এক দক্ষ, সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী ভারত গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলে। সেই স্বপ্নকে বাস্তব করার সমস্ত দায়িত্ব আমি নিজের কাঁধে তুলে নিলাম। তোমার শিক্ষা, মূল্যবোধ আর স্মৃতি সবসময় আমার সঙ্গে থাকবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাহুলের এই বার্তা ঘিরে কংগ্রেস সমর্থকদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বার্তার মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও একটি প্রতীকী বার্তা দিতে চেয়েছেন রাহুল গান্ধী।

পরিবার ও দলের নেতাদের উপস্থিতি

রাজীব গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকীতে এদিন বীর ভূমিতে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। তারাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ দলের শীর্ষ নেতারা। খাড়গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজীব গান্ধীর একটি বিখ্যাত বক্তব্য স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান। কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধানমন্ত্রী মোদির শ্রদ্ধা

বর্তমানে বিদেশ সফরে থাকা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজীব গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীজির মৃত্যুবার্ষিকীতে আমার শ্রদ্ধা জানাই।’

রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ড

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুম্বুদুরে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত হন রাজীব গান্ধী। সে সময় তিনি কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। তদন্তে উঠে আসে, শ্রীলঙ্কাভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম এই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। এই ঘটনায় সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। পরে সেই সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর হস্তক্ষেপের পরই দণ্ড হ্রাসের সিদ্ধান্ত আসে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় কারাভোগের পর পরে মুক্তি পান দণ্ডপ্রাপ্তরা।

রাজীব গান্ধীর অবদান

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাজীব গান্ধীকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভারতের অন্যতম স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ এবং প্রশাসনিক আধুনিকীকরণে তার ভূমিকার কথা এখনও রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচিত হয়। মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া রাজীব গান্ধী ছিলেন ভারতের সবচেয়ে তরুণ প্রধানমন্ত্রী।

তার মৃত্যুবার্ষিকীতে এবারও দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। তবে রাহুল গান্ধীর আবেগঘন বার্তা এবং অপ্রকাশিত পারিবারিক ছবি প্রকাশ এই দিনের আবহকে আরও বেশি আলোচনায় নিয়ে এসেছে।