পুতিনের চীন সফর: বিশ্ব ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে
পুতিনের চীন সফর: বিশ্ব ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে লালগালিচার ওপর দিয়ে হেঁটে প্রবেশ করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। ২০ মে, ২০২৬ তারিখে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক যৌথ ঘোষণায় তারা বলেন, কিছু দেশ ঔপনিবেশিক আমলের মানসিকতা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছে। তবে বিশ্ব আবারও ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা

ঘোষণায় সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করা হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা বিশ্বের কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির বিকল্প তৈরি না করে যুক্তরাষ্ট্র দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে।

নিউ স্টার্ট চুক্তি

এখানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা সীমিত রাখার সর্বশেষ কার্যকর চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর কথা উল্লেখ করা হয়। চুক্তিটির মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে। রাশিয়া চুক্তিটি আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তাতে রাজি হননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুতিনের ২৫তম চীন সফর

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, এটি পুতিনের ২৫তম রাষ্ট্রীয় সফর। তবে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন ও সি এ পর্যন্ত ৪০ বারের বেশি সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর বুধবার গ্রেট হলে তাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈঠকের বিবরণ

রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি জানায়, প্রথমে একান্তে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন সি ও পুতিন। পরে প্রতিনিধিদলসহ বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে আলোচনাকে ‘গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেন সি। অন্যদিকে পুতিন রাশিয়া-চীন সম্পর্ককে ‘আধুনিক বিশ্বে আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের একটি মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই অংশীদারত্ব সমান অধিকার, পারস্পরিক সমর্থন এবং ‘অকৃত্রিম বন্ধুত্বের’ ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

ট্রাম্পের সফরের প্রেক্ষাপট

পুতিনের এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যার মাত্র ছয় দিন আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীন সফর শেষে দেশে ফেরেন। ট্রাম্পও বেইজিংয়ের সেই একই হলে সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বেশি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন।

পাইপলাইন প্রকল্প

পুতিনের সফরের আগে মস্কো ইঙ্গিত দেয়, তারা চীনের সঙ্গে আরও জ্বালানিচুক্তি করতে আগ্রহী। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ চীন সফরে পুতিন ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ পাইপলাইন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে মঙ্গোলিয়া হয়ে রাশিয়া থেকে চীনে বছরে ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

সহযোগিতার অগ্রগতি

চীন প্রকল্পটি নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন কথা না বললেও, সি গতকাল জ্বালানি ও সম্পদের সংযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে চীন-রাশিয়া সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা হিসেবে উল্লেখ করেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, উভয় পক্ষ প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে একটি সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছেছে, তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বার্ষিকী উদ্যাপন

চলতি বছর চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারত্বের সমন্বয় প্রতিষ্ঠার ৩০তম বার্ষিকী এবং চীন-রাশিয়া সুপ্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫তম বার্ষিকী উদ্যাপন করছে।