হাঙ্গেরির রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন পিটার মাজিয়ার
হাঙ্গেরির সর্বশেষ সংসদীয় নির্বাচনে পিটার মাজিয়ারের নেতৃত্বাধীন তিসজা পার্টি বড় ধরনের জয় অর্জন করেছে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইউরোপের দেশটিতে ভিক্টর অরবানের দেড় দশকের বেশি সময়ের শাসনামলের অবসান ঘটেছে। অরবান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নির্বাচনে তিসজা পার্টির বিশাল সাফল্য
প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, মাজিয়ারের দল ১৩৬টি আসন পেয়েছে, যদিও আগে ১৩৮টি আসনের কথা বলা হয়েছিল। বর্তমানে ৪ লাখ ভোটের গণনা বাকি থাকলেও মাজিয়ার বিশ্বাস করেন যে তাঁর দল আরও কয়েকটি আসন অর্জন করতে সক্ষম হবে। ১৯৯ আসনের পার্লামেন্টে তিসজা পার্টি এখনও দুই-তৃতীয়াংশ আসনের ‘সুপার মেজরিটি’ ধরে রেখেছে, যা সংবিধান পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করে।
মাজিয়ারের বিজয় ভাষণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নির্বাচনে নিজ দলের বড় জয় নিশ্চিত হওয়ার পর পিটার মাজিয়ার গত রোববার দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ নীতির রূপরেখা তুলে ধরেন। মাজিয়ার ইতিমধ্যেই ইউরোপের অন্তত ১০ জন নেতার সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর সংযোগের ইঙ্গিত দেয়।
পুতিন ও ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের অবস্থান
মাজিয়ার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করবেন না। তবে তিনি বলেন, ‘যদি ভ্লাদিমির পুতিন ফোন করেন, আমি ফোন ধরব।’ তিনি আরও যোগ করেন যে পুতিন সম্ভবত তাঁকে ফোন করবেন না, কিন্তু যদি কথা হয়, তিনি পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানাবেন। একইভাবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও তিনি ফোন করবেন না, কিন্তু ট্রাম্প যদি যোগাযোগ করেন, মাজিয়ার তাঁকে ন্যাটোর শক্তিশালী মিত্র হিসেবে দেখতে পেরে খুশি হবেন এবং আগামী অক্টোবরে হাঙ্গেরীয় বিদ্রোহের ৭০তম বার্ষিকীতে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানাবেন।
অরবানের পতন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন
ভিক্টর অরবানের জাতীয়তাবাদী দল ফিদেজ এই নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে, যা ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন সত্ত্বেও ঘটেছে। ট্রাম্প অরবানের পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিতে তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে হাঙ্গেরি পাঠিয়েছিলেন। মাজিয়ার একসময় অরবানের ফিদেজ পার্টির ঘনিষ্ঠজন ছিলেন, কিন্তু পরে সরকারের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে তৃণমূল পর্যায় থেকে আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই আন্দোলনই আজ তাকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে।
হাঙ্গেরির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
এই নির্বাচনী ফলাফল হাঙ্গেরির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত হবে। মাজিয়ারের নেতৃত্বে দেশটি এখন নতুন দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁর নীতিগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



