বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ৩২০টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সংসদে জানিয়েছেন, দেশের বন্যাপ্রবণ ৪৩টি জেলার ২৫৮টি উপজেলায় বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ইতিমধ্যে ৩২০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১২৮টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ মো. আবদুল মান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য দেন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষ পদক্ষেপ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম অধিবেশনের অষ্টম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে মন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ঝুঁকি হ্রাসকল্পে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলোর কথা উল্লেখ করেন:
- আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ: বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ৩২০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১২৮টি নির্মাণ করা হবে। এছাড়া উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকায় ৯০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সারা দেশে ১১৫টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং ১২২টি কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
- যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন: দুর্যোকালীন সময়ে সহজে ও দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য দেশব্যাপী ১২ হাজার ২৪৫টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ২ হাজার ৩৬টি নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার এইচবিবি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১ হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
- জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহ: দেশের ১২টি জেলার ৩৫টি উপজেলায় দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি উদ্ধারকার্যের জন্য টেলিকমিউনকেশন ইকুইপমেন্ট, ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্ট, রেডিও সেট, ১২টি রেসকিউ বোট এবং ৪১৩টি শ্যালো ওয়াটার রিসোর্চ বোট ক্রয় করা হবে।
- ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলা: ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় ১১টি এরিয়াল প্ল্যাটফর্ম ল্যাডার ক্রয়পূর্বক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনটি ফর্কলিফ্ট, ২০ টনের তিনটি ডোজার, ৪৮ টনের তিনটি ডোজার আমর্ড ফোর্সেস ডিভিশনকে দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধারকার্যে সরঞ্জাম বিতরণ
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুর্যোগকালীন সময়ে উদ্ধারকার্যের জন্য আরও অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামাদি, তাবু, এয়ার বোট, স্পিড বোট, ইমারজেন্সি রেসপন্স ভেহিক্যাল, স্যার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইকুইপমেন্ট, টেলিযোগাযোগসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয় করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



