আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে একই পরিবারের আটজন নিহত, শিশুটি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে
আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে ৮ জন নিহত, শিশু বেঁচে গেছে

আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একই পরিবারের আটজন নিহত, শিশুটি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে

আফগানিস্তানের কাবুল প্রদেশে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি ধসে একই পরিবারের আটজন সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে কাবুল প্রদেশের গোসফান্দ দারা এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফত জামান শনিবার জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেবল দুই বছর বয়সী একটি শিশু অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে।

ভূমিকম্পের বিস্তারিত তথ্য

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ৫.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৪২ মিনিটে আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশে এবং গভীরতা ছিল ১৮৬ কিলোমিটার (১১৫ মাইল)। উৎপত্তিস্থল থেকে রাজধানী কাবুল প্রায় ২৯০ কিলোমিটার (১৮০ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার কার্যক্রম

আফগানিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, শিশুটি আহত অবস্থায় উদ্ধার পেয়েছে। উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে তথ্য কাবুলে পৌঁছাতে সাধারণত কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভূকম্পনের বিস্তৃতি

রয়টার্সকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কাবুলসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন অংশে এবং ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ, পেশোয়ার, চিত্রাল, সোয়াত ও শাংলা অঞ্চলেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।

আফগানিস্তানের ভূমিকম্পপ্রবণতা

আফগানিস্তান ভৌগোলিকভাবে ইউরেশীয় এবং ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হিন্দুুকুশ পর্বতমালা সংলগ্ন হওয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে ৫৬০ জন মানুষ ভূমিকম্পে প্রাণ হারান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাম্প্রতিক ইতিহাসের ভয়াবহ ভূমিকম্প

দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছিল গত বছরের আগস্টে। মাত্র ৬ মাত্রার ওই অগভীর ভূমিকম্পে পাহাড়ি গ্রামগুলো মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল এবং অন্তত ২ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। যার অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল কুনার প্রদেশে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।