জ্বালানি সংকটের বলি তরুণ অন্তর: তেল আনতে গিয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে নিজ এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেন-পেট্রল না পাওয়ায় এক তরুণ পার্শ্ববর্তী জেলায় গিয়েছিলেন মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে। তবে সেই যাত্রা হয়ে দাঁড়াল মৃত্যুর পথে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দাগনভূঞা-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের এনায়েতভূঞা এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ওই তরুণ।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
নিহত তরুণের নাম মো. অন্তর, বয়স মাত্র ২০ বছর। তিনি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেকের বাজার–সংলগ্ন মৃদ্দাবাড়ির একরামুল হকের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সংকটের কারণে গতকাল বিকেলে অন্তর মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে এক বন্ধুসহ ফেনীর ফিলিং স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হন। রাতে তেল সংগ্রহ করে ফেরার পথে দাগনভূঞা-কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের এনায়েতভূঞা এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা একটি যানবাহনের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ ঘটে।
এই সংঘর্ষে অন্তর ও তাঁর বন্ধু সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন সড়কের ওপর তাঁদের গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অন্তরের মৃত্যু হয়। আহত বন্ধুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাঁর অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।
স্থানীয় নেতা ও পুলিশের বক্তব্য
চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হুমায়ূন কবির ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারে শোকের মাতম চলছে। তবে কোন গাড়ির সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে জ্বালানি সংকট স্থানীয় জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, যা এই দুর্ঘটনার মতো ট্র্যাজেডির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে দুর্ঘটনাটি কীভাবে হয়েছিল, সেটি জানা যায়নি। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। পেছনে থাকা আরোহীও গুরুতর আহত হয়েছেন।’ পুলিশ এখনো তদন্ত চালাচ্ছে এবং অজ্ঞাতনামা যানবাহনটির সন্ধানে রয়েছে।
জ্বালানি সংকট: একটি জাতীয় সমস্যা
এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং দেশব্যাপী জ্বালানি সংকটের একটি মর্মান্তিক প্রতিফলন। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মতো অনেক এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেন-পেট্রলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। সাধারণ মানুষকে দূরবর্তী স্থানে গিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যার ফলে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
- স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের অভাব চলছে।
- জনগণকে পার্শ্ববর্তী জেলায় গিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
- এই পরিস্থিতি সড়ক দুর্ঘটনার মতো বিপজ্জনক ঘটনাকে উসকে দিচ্ছে।
মো. অন্তরের মৃত্যু তাই শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের ইঙ্গিতবাহী। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করা না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
এই দুর্ঘটনায় নিহত অন্তরের পরিবার ও আহত বন্ধুর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে স্থানীয় সম্প্রদায়। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে তারা ঘটনার তদন্ত জোরদার করবে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করবে।



