সাতক্ষীরার তালায় ভূমিকম্পে কাঁচা ঘরের টালি ভেঙে পড়েছে, আতঙ্ক ছড়িয়েছে
সাতক্ষীরায় ভূমিকম্পে কাঁচা ঘরের টালি ভেঙে পড়েছে

সাতক্ষীরার তালায় ভূমিকম্পে কাঁচা ঘরের চালের টালি ভেঙে পড়েছে

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁচা ঘরের চালের টালি ভেঙে পড়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪, যা মাঝারি মাত্রার হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল সরদারের কাঁচা ঘরের সব টালি ভেঙে পড়েছে ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে। তবে সৌভাগ্যবশত এতে কেউ হতাহত হননি, কারণ তখন বাড়িতে কেউ ছিলেন না। ইসমাইল সরদার জানান, তাঁর পরিবারের সবাই পাশের মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। ভূমিকম্প শুরু হলে তাঁরা মসজিদে থেকেই ঘরের চালের টালি ঝরঝর করে ভেঙে পড়ার শব্দ শুনতে পান।

ইসমাইল সরদার বলেন, "আমরা আহলে হাদিস সম্প্রদায়ের। সবাই মসজিদে নামাজে ছিলেন। হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে আতঙ্কে পড়ে যাই। কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরে দেখি লম্বা ঘরের সব টালি চুরমার হয়ে গেছে। তবে অন্য কোনো ক্ষতি হয়নি।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি

এ ছাড়া সাতক্ষীরা সদরের মাগুরা গ্রামের শুভ মণ্ডল জানান, ভূমিকম্পে তাঁর ঘরের দেয়াল ফেটে গেছে। যশোরের কেশবপুর উপজেলার বড়পাথরা গ্রামে হালিম দফাদারের রান্নাঘরের দেয়াল ধসে পড়েছে, তবে সেখানেও কেউ আহত হননি।

ভূমিকম্পে উপজেলা সদরের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবদুল খালেকের পাঁচতলা ভবনের সামনের সড়কে অনেকে নিরাপত্তার জন্য নেমে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা অসীম সেন বলেন, "ভূমিকম্পে আমরা ভয় পেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। কম্পনটা বেশ তীব্র ছিল।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া

শহরের হাসপাতালপাড়ার বাসিন্দা শিক্ষক হালিমা খাতুন জানান, তিনি এর আগে কখনো এত বড় কম্পন অনুভব করেননি। তিনি তাঁর শিশুকে নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। কেশবপুরের নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক আইনজীবী আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, তিনি খাটের ওপর শুয়ে ছিলেন এবং ভূমিকম্পে তিনি খাট থেকে পড়ে যান।

এই ঘটনা সাতক্ষীরা ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।