কক্সবাজারে নতুন গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণে আগুন, নয়জনের বেশি আহত
কক্সবাজারে গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণে আগুন, আহত ৯

কক্সবাজারে নতুন গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণে আগুন, নয়জনের বেশি আহত

কক্সবাজারে একটি নতুন নির্মিত গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণের পর আগুন লেগে কমপক্ষে নয়জন আহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের কালাতলী আদর্শগ্রাম এলাকায় এন আলম নামের এই স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার দিক থেকে গ্যাস লিক শুরু হয় এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বাতাসে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের আগে এলাকাটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১০টার দিকে একটি জোরালো বিস্ফোরণ শোনা যায়, যা প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গ্যাস পূর্ণ হওয়ার পর ঘটে।

বিস্ফোরণের ফলে স্টেশনের একাধিক স্থানে আগুন ধরে যায় এবং তা পাশের দুটি বাড়ি ও অন্যান্য কাঠামোয় ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের পরিচয় তৎক্ষণাৎ নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রিপোর্ট করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল বোলম ও সাইফুল ইসলামের মতো কয়েকজন অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস লিক চললেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে মানুষজন সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আশেপাশে আগুন জ্বালানো থেকে বিরত থাকতে গণসচেতনতা তৈরি করছে।

কালাতলী রোড—যা শহরে প্রবেশের একটি প্রধান পথ—ট্রাফিক বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামে যাতায়াতকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় ২০,০০০ মানুষ সংলগ্ন আদর্শগ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেল এলাকায় বসবাস করেন, যাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দমকল ও পুলিশের তৎপরতা

কক্সবাজার দমকল ও সিভিল ডিফেন্সের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় বিস্ফোরণের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, "একাধিক দমকল ইউনিট মানুষজন সরিয়ে নেওয়া এবং গ্যাস লিক বন্ধ করার চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করছে।"

কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার-ইন-চার্জ সামি উদ্দিন উল্লেখ করেন যে, তথ্য পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তিনি বলেন, "আমরা দর্শকদের নিরাপদ দূরত্বে রাখছি এবং ক্ষতি কমানোর জন্য অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় করছি।"

এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।