নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ ভেঙে এক নারীর বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন ওই নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার (৮ মে) বিকাল চারটা থেকে প্রায় আধঘণ্টা ধরে বয়ে যাওয়া ঝড়ে পুরো উপজেলা লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
গাছ পড়ে ঘর দুমড়ে-মুচড়ে
দুর্গাপুর পৌরশহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ববাগিচাপাড়া এলাকায় আছমা খাতুনের ঘরের ওপর একটি বিশাল জামগাছ পড়ে যায়। এতে তার পুরো ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্রও গাছের নিচে চাপা পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি তার নাতি ও অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
আছমা খাতুনের বক্তব্য
আছমা খাতুন জানান, অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রায় চার বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন। প্রতিবেশীদের সহায়তায় মাটির দেয়াল দিয়ে তৈরি করা বসতঘরটি এখন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, 'গাছ পড়ে ঘরের চালসহ ভিতরে থাকা সব আসবাবপত্র গাছের নিচে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আজ রাত কাটাব কীভাবে, সে ভাবনায় আছি।'
স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দা সেকুল মিয়া বলেন, আছমা খাতুন অত্যন্ত দরিদ্র একজন নারী। বিকালের ঝড়ে তার সব কিছুই নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরের পাশে থাকা বিশাল জামগাছ পড়ে তার ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। তার পুনরায় ঘর মেরামত করার সামর্থ্য নেই। এলাকাবাসীর দাবি, তাকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হোক।
তাৎক্ষণিক সহায়তা
ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জামাল উদ্দিন মাস্টার তাৎক্ষণিকভাবে নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি এই অসহায় পরিবারকে সহায়তা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
প্রশাসনের আশ্বাস
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, 'বিষয়টি আমরা জেনেছি। গাছটি সরিয়ে নেওয়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করা হবে।'



