কালশী বস্তিতে অগ্নিকাণ্ড: ঈদের আগে পুড়ে ছাই শতাধিক পরিবারের স্বপ্ন
কালশী বস্তিতে অগ্নিকাণ্ড: ঈদের আগে পুড়ে ছাই স্বপ্ন

ঈদের আনন্দ যেখানে থাকার কথা ছিল নতুন কাপড়, পরিবার আর উৎসবের ব্যস্ততায়—সেখানে রাজধানীর কালশী বস্তির অনেক মানুষের জীবন এখন থমকে আছে পোড়া ছাইয়ের স্তূপে। ভয়াবহ আগুনে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, সঞ্চয় আর সন্তানদের ঈদের কাপড় হারিয়ে খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটছে শতাধিক পরিবারের।

আগুনের ভয়াবহতা

সোমবার (২৫ মে) রাতের সেই ভয়াবহ আগুনের দুই দিন পরও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন পুড়ে যাওয়া ঘরের ধ্বংসস্তূপ ঘেঁটে খুঁজে ফিরছেন নিজেদের শেষ সম্বল। বুধবার (২৭ মে) কালশী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কেউ পোড়া টিন, কাঠ ও ছাইয়ের স্তূপ সরিয়ে খুঁজছেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কেউবা ছাইয়ের ভেতর থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন ব্যবহারযোগ্য কিছু জিনিস।

আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোর জায়গাজুড়ে এখন শুধু কালো ছাই, বাঁকানো টিন আর ভাঙা কাঠামো। অনেক পরিবার আশপাশের অস্থায়ী শেড কিংবা খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। সামনে ঈদ হলেও তাদের চোখেমুখে নেই উৎসবের কোনো আনন্দ—আছে শুধু অনিশ্চয়তা আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থা

ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে অধিকাংশ মানুষ কিছুই বের করতে পারেননি। মুহূর্তেই পুড়ে গেছে বহু বছরের গড়ে তোলা সামান্য স্বপ্ন আর জীবনযাপনের সব অবলম্বন। অনেকের কাছেই ঈদের জন্য কেনা নতুন জামা, জমানো টাকা—সব শেষ হয়ে গেছে আগুনের গ্রাসে।

ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে আশপাশের অস্থায়ী শেড ও খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। সামনে ঈদ হলেও তাদের চোখে নেই কোনও আনন্দ। কোথায় থাকবেন, কীভাবে পরিবার নিয়ে ঈদ কাটাবেন, সেই অনিশ্চয়তাই এখন বড় চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৎপরতা ও সহায়তার অভাব

আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কাজ করলেও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবী সংগঠনগুলো কিছু খাবার ও শুকনো দ্রব্য বিতরণ করলেও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার অভাবে পড়েছেন বস্তিবাসী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে আরও শত শত পরিবার।