রংপুরে টানা বৃষ্টিতে নগরীর ২০ এলাকায় জলাবদ্ধতা, ভোগান্তি চরমে
রংপুরে বৃষ্টিতে ২০ এলাকায় জলাবদ্ধতা, ভোগান্তি চরমে

রংপুরে কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে নগরীর বেশ কয়েকটি সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। শ্যামাসুন্দরী খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা নিয়ে নগরবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (২২ মে) সকাল পর্যন্ত নগরীতে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

প্লাবিত এলাকাসমূহ

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর খামার মোড় এলাকা, বাবুখা, মাস্টারপাড়া, আবহাওয়া অফিস এলাকা, চারতলা মোড় কলোনি, লালবাগ এবং পার্কের মোড়, মেডিকেল ক্যাম্পাস, স্টেশন এলাকা, লালবাগ রোড, দর্শনাসহ অন্তত ২০টি এলাকায় সড়কে হাঁটু পানি জমে আছে। এছাড়াও নগরীর রবাটসন্সগঞ্জ, তাতিপাড়া, নীলকণ্ঠ সোটাপীর, শান্তিবাগসহ কমপক্ষে ৫০টি নিম্নাঞ্চল এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ

নগরবাসীর অভিযোগ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সিটি কর্পোরেশন একের পর এক সড়ক নির্মাণ করলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন তৈরি করেছে। অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থাই নেই। আবার কোথাও ড্রেন থাকলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার বা সংস্কার করা হয় না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ওসব এলাকা প্লাবিত হয়। আবার কোথাও বৃষ্টির পানি নেমে যেতে না পারায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নগরীর ফুসফুসে খ্যাত শ্যামাসুন্দরী খালের বেহাল অবস্থা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নগরবাসী। নগরীর নীলকণ্ঠ সোটাপীর এলাকার বাসিন্দা ফজলার রহমান জানান, এই এলাকায় কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। যার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কসহ এলাকায় পানি জমে যায়। সড়কে চলাচল করা যেমন কষ্টের, তেমনি বাড়িতে পানি ওঠায় বসবাস অনুপযোগী হয়েছে। এলাকার এই সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। অনেক চেষ্টা করেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবহাওয়া অফিস এলাকার বাসিন্দা রমিজ আলম জানান, এই এলাকায় অল্প বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি ওঠে। অথচ এই এলাকায় বড় বড় বিল্ডিং হয়েছে, রাস্তা হয়েছে, কিন্তু কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। যার কারণে অল্প বৃষ্টিতেই সড়ক ডুবে যাচ্ছে।

সিটি কর্পোরেশনের বক্তব্য

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্বরত) রাকিব হাসান বলেন, সড়ক ও নিম্নাঞ্চলের জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস

রংপুরের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, মহানগরীতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমন বৃষ্টিপাত আরও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।