ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকে ‘ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করলেও, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিধবা স্ত্রী ও যুবরাজ রেজা পাহলভির মাতা ফারাহ পাহলভি। আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারাহ পাহলভি ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
নির্বাসিত জীবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকেই ফারাহ পাহলভি প্যারিসে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। তিনি তার সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ‘ক্ষমতার কাঠামোর কেন্দ্রীয় অবস্থানে থাকা কোনো ব্যক্তির চলে যাওয়া কখনোই একটি পুরো ব্যবস্থার সমাপ্তি বা পতন বোঝায় না।’ তার এই বক্তব্য ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান আলোচনায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জনগণের ঐক্যের ওপর জোর
ফারাহ পাহলভি আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এক্ষেত্রে প্রকৃত মূল বিষয়টি হলো ইরানি জনগণের নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সামর্থ্য এবং সক্ষমতা। তারা যদি একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং সম্পূর্ণ সার্বভৌম পরিবর্তনের মাধ্যমে আইনের শাসন দ্বারা পরিচালিত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে একত্রিত হতে পারে, তবেই সেটি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।’ তার মতে, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন শুধুমাত্র একজন নেতার অবসানের উপর নির্ভর করে না, বরং তা জনগণের সচেতনতা ও সংঘবদ্ধতার ফলাফল।
রেজা পাহলভির প্রস্তুতির কথা উল্লেখ
এই সাক্ষাৎকারে ফারাহ পাহলভি আরও প্রকাশ করেছেন যে, তার পুত্র রেজা পাহলভি বর্তমানে ইরানে ঠিক এই ধরনের একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার ছেলের পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে একটি সম্ভাব্য রূপান্তরের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ফারাহ পাহলভির এই মন্তব্যগুলো ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে আলী খামেনির উত্তরাধিকার ও শাসনব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে। তার বক্তব্য ইরানি জনগণের ভূমিকা ও শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের গুরুত্বকে প্রাধান্য দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে।



