ভারতের মাওবাদী নেতা মিসির বেশরাকে ধরতে ঝাড়খণ্ডে তল্লাশি জোরদার
মাওবাদী নেতা মিসির বেশরাকে ধরতে ঝাড়খণ্ডে তল্লাশি জোরদার

ভারতের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-এর সর্বশেষ সক্রিয় পলিটব্যুরো সদস্য ৬৬ বছর বয়সী মিসির বেশরাকে ধরতে ঝাড়খণ্ডের সারান্দা জঙ্গলে তল্লাশি জোরদার করেছে চার হাজার সদস্যের এক বিশাল যৌথবাহিনী। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।

যৌথবাহিনীর অভিযান

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ‘রেড করিডোর’ খ্যাত এই ঘন জঙ্গল ঘেরাও করে সিআরপিএফ, বিশেষ অ্যান্টি-নাক্সাল ইউনিট কোবরা এবং ঝাড়খণ্ড পুলিশের জওয়ানরা অভিযান চালাচ্ছেন। বেশরা ওরফে সাগর বা অসীম মন্ডল তার অনুসারীদের নিয়ে এই জঙ্গলে লুকিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আত্মসমর্পণের পথ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জঙ্গলের ভেতরে চারদিক থেকে ঘেরাও এবং রসদ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আত্মসমর্পণই এখন তার একমাত্র পথ। সারান্দার এই অভিযান ভারতের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘ অভিযানের শেষ অধ্যায় হতে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে নিরাপত্তা উপস্থিতি বাড়াতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ফরোয়ার্ড অপারেটিং বেস (এফওবি) স্থাপন করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নকশালমুক্ত ভারতের লক্ষ্য

গত সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ ছত্তিশগড়ের বাস্তার সফরের সময় ভারতকে ‘নকশাল-মুক্ত’ ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বামপন্থী চরমপন্থা দমনের জন্য ৩১ মার্চের যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, তারপর এটিই ছিল তার প্রথম বাস্তার সফর। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে নকশাল-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা কমে ৭টিতে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর, নারায়ণপুর এবং সুকমা এই তিনটি জেলা এখনও ‘সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মিসির বেশরার ভূমিকা

১ কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষিত মিসির বেশরা হলেন সিপিআই-মাওবাদীর সর্বশেষ শীর্ষ কমান্ডার। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া বড় ধরনের মাওবাদী-বিরোধী অভিযানের পর ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র এবং অন্ধ্রপ্রদেশে অন্য সব পলিটব্যুরো সদস্য হয় আত্মসমর্পণ করেছেন, না হয় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বেশরা এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন, যার মধ্যে ২০০৪ সালের এপ্রিলে ৩২ জন পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনাটি অন্যতম।