যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: অস্থায়ী শান্তি নাকি ট্রাম্পের কৌশল?
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: অস্থায়ী শান্তি নাকি কৌশল?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। গত সপ্তাহে ফ্রান্সে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বড় প্রাপ্তি হলো, দুই দেশ এখন আর প্রকাশ্য যুদ্ধে লিপ্ত নয়। অর্ধশতকের বৈরিতা আর মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি চুক্তির ব্যর্থতার ইতিহাসের পটভূমিতে এই যুদ্ধবিরতি অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে আপাতদৃষ্টিতে এটি যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ দেখালেও, কোনো টেকসই শান্তির নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

যুদ্ধবিরতি: ট্রাম্পের কৌশল নাকি প্রকৃত শান্তি?

বিশ্লেষকদের মতে, কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো এড়াতে সময় কেনার জন্য এটি ট্রাম্পের একটি কৌশল মাত্র। চুক্তির সবচেয়ে বড় সুফল হলো ইরানের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। গত বুধবার এই প্রণালি দিয়ে ৭০টি জাহাজ পারাপার হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। তবে যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির চেয়ে এটি এখনও কম। ইরান এখনও উত্তর করিডোরে পারমিট বাধ্যতামূলক রেখেছে এবং মাইনের কারণে ওমান উপকূল ঘেঁষে একটিমাত্র লেন সচল আছে। বৃহস্পতিবারও একটি মালবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও তেলের ধাক্কা

জেপি মরগানের মতে, এই প্রণালি বন্ধ থাকায় ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেলের ধাক্কা লেগেছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের সরবরাহ ব্যাপক কমিয়ে দেয়। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, এটি দীর্ঘস্থায়ী হলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটত। তবে শুল্কমুক্ত জাহাজ চলাচলের এই সুবিধা মাত্র ৬০ দিন স্থায়ী হবে, এরপর ইরান প্রতি ব্যারেলে শুল্ক আরোপ করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের তেল রপ্তানি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল

এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর ইরান আবার সবার কাছে তেল বিক্রি শুরু করেছে। ট্যাংকার ট্র্যাকার্সের তথ্যমতে, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের পরপরই হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৩৮ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করেছে ইরান, যার বেশির ভাগই গেছে চীনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান এখন দিনে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রি করতে পারবে এবং বৈধভাবে বিক্রির কারণে আগের মতো ছাড় দিতে হবে না। তবে সমালোচকদের ভয়, এই অর্থ দিয়ে ইরান আবারও তাদের সামরিক বাহিনী, ড্রোন কর্মসূচি এবং হিজবুল্লাহ ও হুথির মতো প্রক্সি নেটওয়ার্কগুলোকে শক্তিশালী করবে।

তহবিল পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগ তহবিল

এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা ১ হাজার বিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল ফেরত চায় ইরান। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা পর্যন্ত কোনো অর্থ ছাড় দেওয়া হবে না। তবে চুক্তিতে একটি ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে।

পারমাণবিক পরিদর্শন ও ইসরায়েলের অবস্থান

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন জাতিসংঘ পারমাণবিক পরিদর্শকেরা আজীবন ইরানে প্রবেশাধিকার পাবেন। কিন্তু ইরান বলছে ভিন্ন কথা; চূড়ান্ত চুক্তির আগে তারা কোনো পরিদর্শনের সুযোগ দেবে না। চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হলেও ইসরায়েল নিজেকে এই চুক্তির বাধ্যবাধকতায় অংশীদার মনে করে না। ইসরায়েলের দাবি, তারা নিজেদের সুরক্ষায় যেকোনও পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা বজায় রাখবে, যা আগামীতে ট্রাম্পের কর্তৃত্বের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।

সূত্র: সিএনএন