ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশের অনুরোধের ভিত্তিতে তিস্তার বৃহদায়তন প্রকল্পে চীন সরকারি স্তরে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বারিধারায় চীনের দূতাবাসে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও তিস্তা প্রকল্প
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত চীন সফর উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে ইয়াও ওয়েন তিস্তা প্রকল্পকে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'তিস্তা প্রকল্পের সঙ্গে নদীর আশপাশের মানুষের জীবিকা জড়িত। বাংলাদেশের অনুরোধে আমরা এই প্রকল্প নিয়ে যথাসাধ্য সহযোগিতা করব।'
এর আগে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক সই হলেও বর্তমানে সরকারি স্তরে সহযোগিতার কথা জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, 'চীনা কোম্পানি নিজেদের সমীক্ষা চালাতে পারে। আমরা সেরা বিজ্ঞানীদের দিয়ে সমীক্ষা চালাব। প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে হলে অবশ্যই সমীক্ষার প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় চীন সরকার কাজ করে সমীক্ষা এগিয়ে নেবে। এ ব্যাপারে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।'
ভারতের উদ্বেগ প্রসঙ্গে
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগ এবং উজান থেকে পানি না ছাড়ার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, 'এটা নিয়ে অন্য উপাদানের কথা বলছেন। এটা আমাদের বিবেচনার বিষয় নয়। বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনুযায়ী চীন এগিয়ে এসেছে।'
ত্রিদেশীয় অর্থনৈতিক করিডর
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে ত্রিদেশীয় অর্থনৈতিক করিডরের বিষয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, 'এটি নতুন উদ্যোগ নয়। আমরা ১৫ বছর আগে বিসিআইএমের প্রস্তাব করেছিলাম। কিছু অগ্রগতি হলেও চীন যেভাবে চেয়েছিল, সেভাবে তা এগোয়নি। যেহেতু বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংযুক্তি চাইছে, চীনও আরও বেশি আঞ্চলিক সংযুক্তি চায়। আমি বিশ্বাস করি, মিয়ানমারও এ ধরনের সহযোগিতা চায়।'
মিয়ানমারের অস্থিতিশীলতার কারণে স্থলপথে করিডর প্রতিষ্ঠার সমস্যা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'প্রাথমিকভাবে আমরা বন্দর ও সমুদ্রপথে যুক্ততার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে পারি।'



