আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। মঙ্গলবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
কাতারের রাজধানী দোহায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান এ মন্তব্য করেন। ফিদান বর্তমানে এক সরকারি সফরে কাতারে অবস্থান করছেন।
গাজা ইস্যু আড়ালে না যেতে দেওয়ার আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান বলেন, পারস্য উপসাগরে চলমান উত্তেজনার কারণে গাজা ইস্যু যেন কোনোভাবেই আড়ালে চলে না যায়। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি সম্প্রসারণবাদ এই অঞ্চলের ‘স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার’ জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে।
ফিদান জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথে নৌ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ব অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সমর্থন
সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল থানি বলেন, ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে কাতার ও তুরস্ক সমর্থন করে। তিনি এই কৌশলগত পথে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আল থানি বলেন, ‘কাতার ও তুরস্ক যৌথভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার পাশে রয়েছে।’
কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে এই জলপথকে ‘ব্ল্যাকমেইল’-এর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। গাজা প্রসঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করে বলেন, ইসরায়েল ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং অবরুদ্ধ ওই জনপদে ‘মানবিক সাহায্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড



