লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ঘোষিত অস্ত্রবিরতি এখন কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর বুধবার (৬ মে) লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলী দাহিয়েহ এলাকায় প্রথমবারের মতো ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
হামলার বিবরণ
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, দাহিয়েহ এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর আশেপাশে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে। বৈরুতে এই হামলা চলমান সংঘাতকে আবারও চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বেসামরিক হতাহত
বৈরুত থেকে বিবিসির প্রতিনিধি হুগো বাচেগা জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং গত কয়েক দিনে বেসামরিক নাগরিকসহ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরাইলের দাবি, হিজবুল্লাহ কর্তৃক অস্ত্রবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় তারা এই হামলা চালাচ্ছে।
পাল্টা অভিযোগ
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেছে যে ইসরাইলই প্রথম চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং এর প্রতিবাদে তারা দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরাইলের দখলকৃত এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে শান্তি ফেরানোর উদ্দেশ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা
বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সীমান্ত অঞ্চলে রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে জনবহুল বৈরুতে এই হামলা নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।



