বাণিজ্য চুক্তি মেনে না চলার অভিযোগ এনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আমদানিকৃত গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈশ্বিক অর্থনীতির এক নাজুক মুহূর্তে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট
শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইইউ আমাদের সঙ্গে হওয়া সম্পূর্ণ সম্মত বাণিজ্য চুক্তিটি মেনে চলছে না। তবে ওই পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা আপত্তির কথা উল্লেখ করেননি।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এই বাণিজ্য চুক্তিতে একমত হয়েছিলেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী বেশিরভাগ পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের রুলিং ও শুল্ক হ্রাস
গত জুলাইয়ের সেই চুক্তিটি প্রথম সন্দেহের মুখে পড়ে যখন চলতি বছর মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক রুলে জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং শুল্কারোপ করার ক্ষেত্রে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের আইনি কর্তৃত্বের অভাব রয়েছে।
প্রাথমিক চুক্তিতে ইইউ থেকে আসা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণের কথা থাকলেও সুপ্রিম কোর্টের ওই রুলিংয়ের পর তা কমে ১০ শতাংশে নেমে আসে। এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন অন্যান্য আইনের ওপর ভিত্তি করে নতুন একগুচ্ছ আমদানি কর আরোপ শুরু করে। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত ইইউ-এর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ইইউ-এর সম্ভাব্য ক্ষতি
ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগে জানিয়েছিল, এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ফলে ইউরোপের গাড়ি নির্মাতাদের প্রতি মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি ইউরো (৫৮ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৭০ কোটি ডলার) সাশ্রয় হবে।
ইইউ-এর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবার বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৭ ট্রিলিয়ন ইউরো (২ ট্রিলিয়ন ডলার), যা দৈনিক গড়ে প্রায় ৪৬০ কোটি ইউরো।



