ইরান যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য টেড লিউ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে টেড লিউ বলেন, “ট্রাম্প এবং তার ধনকুবের বন্ধুরা যখন আরও ধনী হচ্ছে, তখন সাধারণ মার্কিনিরা জ্বালানির উচ্চমূল্যে পিষ্ট হচ্ছে।”
মূল্যবৃদ্ধির চিত্র
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন (৩.৮ লিটার) পেট্রোলের গড় দাম বর্তমানে ৪.৩৯ ডলার। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৩ ডলারের নিচে। অর্থাৎ যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির খরচ প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা মার্কিন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই জ্বালানির দাম ‘দ্রুত কমে আসবে’। তার প্রশাসনের দাবি, ইরান ইস্যুতে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করবে।
বিশ্লেষকদের মতামত
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা বজায় থাকায় নিকট ভবিষ্যতে তেলের দাম ৩ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা খুবই কম। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



