বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বৌদ্ধ ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বৌদ্ধ ঐতিহ্যের ভূমিকা

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো অভিন্ন বৌদ্ধ ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন) গোকুল ভিকে।

বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে আলোচনা

শুক্রবার (১ মে) সকালে বৌদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বাসাবো রাজর্ষিক বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৌদ্ধপূর্ণিমা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি দুই দেশের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক মিলনেরও প্রতীক।

বুদ্ধের শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক সংযোগ

বক্তারা বলেন, গৌতম বুদ্ধের জীবন ও শিক্ষা ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে এক গভীর আধ্যাত্মিক সংযোগ তৈরি করেছে। ভারতের বিভিন্ন বৌদ্ধ তীর্থস্থান প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিভাজন ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বুদ্ধের করুণা (কারুণা) ও মৈত্রীর শিক্ষা দুই দেশের মানুষের মধ্যে শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে। তারা সবাইকে দৈনন্দিন জীবনে সহমর্মিতা, ধৈর্য ও প্রজ্ঞার চর্চার আহ্বান জানান এবং বলেন, বুদ্ধের শিক্ষা অনুসরণ করেই একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুষ্ঠানের আয়োজন ও অতিথিরা

শেষে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের সকল বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানানো হয়। বুদ্ধ পূর্ণিমা তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করে শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা জাতিসংঘ বেসাক ডে উদযাপন কমিটি ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহ-সভাপতি ও ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের অধ্যক্ষ বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো'র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা ওয়াসার এমডি আমিনুল ইসলাম। এছাড়া আয়োজক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন। এর আগে শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ সংঘের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল সালাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামসহ বৌদ্ধ ভিক্ষু ও সম্প্রদায়ের সদস্যরা।