মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক চাপে পড়ে নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন অপেরা হাউসকে (মেট অপেরা) দেওয়া ২০ কোটি ডলারের চুক্তি থেকে সরে এসেছে সৌদি আরব। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
চুক্তি ভাঙার কারণ
মেট অপেরার জেনারেল ম্যানেজার পিটার গেল্ব নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল চলাচলে অবরোধ সৌদি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলায় রিয়াদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এখন শুধু অত্যাবশ্যক প্রকল্পগুলোই চালু রাখছে। মেট অপেরা অর্থায়নকে ‘অত্যাবশ্যক প্রকল্পের বাইরে’ রেখেছে রিয়াদ।
আর্থিক পটভূমি
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আর্থিক সংকটে পড়ে মেট অপেরা সৌদি আরবের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। সে সময় পরিচালন ব্যয় চালাতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের এনডাওমেন্ট ফান্ড থেকে প্রায় ১২ কোটি ডলার, অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ব্যবহার করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরব অর্থায়ন দেবে এবং বিনিময়ে মেট অপেরা প্রতি শীতে তিন সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবে পরিবেশনা করবে।
অর্থনীতিতে প্রভাব
তেলনির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতি বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে সৌদি আরব ক্রীড়া, শিল্প ও বিনোদনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে ধাক্কা লেগেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে পর্যটনেও ধাক্কা লেগেছে। চলতি মাসের শুরুতে পর্যটক কমে যাওয়ায় দুবাইয়ের বুর্জ আল আরব হোটেল ১৮ মাসের সংস্কারকাজে বন্ধের ঘোষণা দেয়।
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সৌদির আরেক বড় বিনিয়োগ প্রকল্পেও। ফিন্যানশিয়াল টাইমস এপ্রিল মাসে জানায়, পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড প্রতিদ্বন্দ্বী গলফ ট্যুর লিভ গলফকে দেওয়া ৫ বিলিয়ন ডলারের সমর্থন কমানোর পথে রয়েছে।
উচ্চাভিলাষী প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন
যুদ্ধ শুরুর আগেই সৌদি আরব কিছু উচ্চাভিলাষী প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করছিল। ডিসেম্বরে অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান বলেছিলেন, রিয়াদ প্রকল্প পুনর্বিবেচনা থেকে বিরত থাকবে না। এরই মধ্যে রাজধানী রিয়াদে নির্মাণাধীন বিশাল ঘনকাকৃতি প্রকল্প মুকাব স্থগিত করা হয়েছে। মরুভূমিতে স্কি রিসোর্ট এবং কৃত্রিম হ্রদের জন্য বড় বাঁধ নির্মাণ পরিকল্পনাও বাতিল হয়েছে।
সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন থাকায় দেশটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করতে পারে। ফলে যুদ্ধের মধ্যেও তেল রপ্তানি চালিয়ে যাওয়া প্রায় একমাত্র উপসাগরীয় রাষ্ট্র সৌদি আরব এবং উচ্চ তেলের দাম থেকেও তারা লাভবান হচ্ছে। তবুও সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য নিজেদের নিরাপদ ব্যবসা ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা কঠিন করে তুলেছে।
পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড গভর্নর ইয়াসির আল-রুমাইয়ান আল আরাবিয়া বিজনেসকে বলেন, ইরান যুদ্ধ পিআইএফের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণে চাপ তৈরি করছে।



