লেবানন-ইসরায়েল আংশিক যুদ্ধবিরতি: উত্তেজনা প্রশমনের আশা
লেবানন-ইসরায়েল আংশিক যুদ্ধবিরতি: উত্তেজনা প্রশমনের আশা

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে লেবানন। গতকাল সোমবার লেবাননের এ ঘোষণা চলতি সংঘাতে উত্তেজনা সীমিত মাত্রায় হলেও প্রশমনের একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এ সংঘাতে হাজারের বেশি লেবাননি নিহত হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইরানের ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধ লেবানন পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিয়েছে। ওয়াশিংটনে লেবাননের দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে দেশটিতে চলমান সংঘাতের পুরোপুরি অবসান হবে না। তবে এতে ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত বৈরুত ও এর শহরতলিতে হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর তাদের হামলা বন্ধ রাখবে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের ঘটনা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্চে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। সেখানে গতকাল সন্ধ্যায়ও সংঘর্ষ চলছিল। আজ মঙ্গলবার ভোররাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে ছোড়া দুটি ‘প্রজেক্টাইল’ তারা ভূপাতিত করেছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে উত্তেজনা এখনও বজায় রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের ঘোষণা ও নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া

আংশিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে প্রথম ঘোষণা আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট কখনো সরাসরি বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেননি। যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহকে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ট্রাম্প আরও বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতে হামলার প্রস্তুতিতে থাকা যেকোনো সেনা বা আক্রমণাত্মক তৎপরতা গুটিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। সেখানে স্থলবাহিনী জাহারানি নদীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে লেবাননের সবচেয়ে গভীরে ইসরায়েলের অনুপ্রবেশ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যাচ্ছেন।

হিজবুল্লাহ ও লেবাননের অবস্থান

লেবাননের পার্লামেন্ট সদস্য হিজবুল্লাহ নেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেন, মিলিশিয়া গোষ্ঠীটি ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পূর্বশর্ত হিসেবে লেবাননে পূর্ণ যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করবে। তবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করবে কি না, তা তিনি জানাননি। লেবানন বলেছে, আগামীকাল বুধবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় তারা যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের চেষ্টা করবে।

আঞ্চলিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

গত ২ মার্চ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ইরান যুদ্ধ অবসানের যেকোনো চুক্তির শর্ত হিসেবে তেহরান লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, দুটি সংঘাত আলাদা। এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিঃসন্দেহে সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতি, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে।’