মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সুশাসন আরও জোরদারের কাজ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানান। সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগের প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও নৈতিকভাবে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
শ্রমিক নিয়োগে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার অঙ্গীকার
বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রমিক নিয়োগের প্রক্রিয়া যেন শোষণ, বৈষম্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডমুক্ত থাকে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রামানান বলেন, মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে বিদেশি শ্রমিক সরবরাহকারী প্রধান দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। তাই উভয় দেশের স্বার্থে সুশাসন, শ্রমিক কল্যাণ ও নৈতিক নিয়োগব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণ
রামানান আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতে সহযোগিতা শুধু শ্রমিকদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করবে না; বরং দেশের (মালয়েশিয়ার) শ্রমশক্তির চাহিদা টেকসই ও দায়িত্বশীলভাবে পূরণেও সহায়তা করবে। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় সুশাসন জোরদার এবং বাংলাদেশসহ অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারণে মন্ত্রণালয় সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক ও যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন
এর আগে সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। সেখানে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক অভিবাসন নিরাপদভাবে এবং উভয় দেশের জন্য উপকারীভাবে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনে সম্মত হন। এই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করবে এবং দুই দেশের বর্তমান প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন একটি এমওইউ প্রণয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের সরকারি সফরে দেশটিতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর।



