মসজিদে প্রবেশের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ ও আদব
মসজিদে প্রবেশের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ

মসজিদ আল্লাহর ঘর। এটি কেবল নামাজ আদায়ের স্থান নয়; বরং ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির এক মহিমান্বিত কেন্দ্র। এখানে বান্দা তার রবের সামনে দাঁড়ায়, হৃদয়ের সব অনুভূতি নিবেদন করে এবং আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ পায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় স্থান হলো মসজিদ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৭১)

মসজিদে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ

অনেকেই প্রতিদিন নামাজে বা অন্য প্রয়োজনে মসজিদে যাতায়াত করি, কিন্তু এর আদব ও সুন্নাহ পালনে যথেষ্ট সচেতন নই। অথচ এই ছোট ছোট সুন্নাহ ও শিষ্টাচারই মসজিদে প্রবেশকে করে তোলে আরও বরকতময়, অর্থবহ ও আত্মিকভাবে প্রাণবন্ত। চলুন জেনে নিই, মসজিদে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সুন্নাহ:

১. বিসমিল্লাহ বলে প্রবেশ করা

মসজিদে প্রবেশের প্রথম সুন্নাহ হলো ‘বিসমিল্লাহ’ বলে প্রবেশ করা। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আল্লাহর নামে সূচিত হয় না, বরকতশূন্য হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৯৪) আজকের ব্যস্ত জীবনে আমরা প্রায়ই বরকতের অভাব অনুভব করি। অনেক সময় প্রচুর পরিশ্রমের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। এর একটি কারণ হতে পারে, আল্লাহকে স্মরণ না করে কাজ শুরু করা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২. নবীজির প্রতি দরুদ পাঠ

মসজিদে প্রবেশের সময় দরুদ শরিফ পাঠ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। এটি নবীজি (সা.)–এর প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের অপূর্ব নিদর্শন। পাশাপাশি এটি বান্দার জন্য রহমত ও কল্যাণের কারণ। আল্লাহ-তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬) একাগ্রতার সঙ্গে দরুদ পাঠ করলে হৃদয় কোমল হয়, অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং ইবাদতের জন্য মন প্রস্তুত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৩. মসজিদে প্রবেশের দোয়া পড়া

মসজিদে প্রবেশের সময় মহানবী (সা.) একটি বিশেষ দোয়া পাঠ করতেন এবং সাহাবিদেরও তা শিক্ষা দিয়েছেন। উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাফতাহ লি আবওয়াবা রাহমাতিক। অর্থ: হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭১৩) দোয়াটি সংক্ষিপ্ত হলেও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি বান্দাকে আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহের প্রত্যাশী হওয়ার শিক্ষা দেয়।

৪. ডান পায়ে প্রবেশ

রাসুল (সা.) সব সম্মানজনক ও উত্তম কাজে ডান দিককে প্রাধান্য দিতেন। মসজিদে প্রবেশের সময় ডান পা আগে রাখা সেই সুন্নাহরই অংশ। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘নবীজি (সা.) জুতা পরিধান, মাথা আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জনসহ সব উত্তম কাজেই ডান দিককে প্রাধান্য দিতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৬৮) অনেকের কাছে এই আমল ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু একজন সত্যিকারের নবীপ্রেমীর কাছে কোনো সুন্নাহই তুচ্ছ নয়। কারণ তিনি জানেন, নবীপ্রেম কেবল ভারী আমলের মাধ্যমেই নয়, ছোট ছোট সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমেও প্রকাশ পায়।

৫. নফল ইতিকাফের নিয়ত করা

মসজিদে প্রবেশের পর যতক্ষণ অবস্থান করা হবে, ততক্ষণ নফল ইতিকাফের নিয়ত করে নেওয়া উত্তম। এর ফলে মসজিদে কাটানো সময় ইবাদতে গণ্য হয় এবং প্রতিটি মুহূর্ত সওয়াবে পরিণত হয়। নফল ইতিকাফের নিয়ত এভাবে হতে পারে: ‘আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যতক্ষণ মসজিদে অবস্থান করব, ততক্ষণ নফল ইতিকাফের নিয়ত করলাম।’ এই নিয়ত মানুষকে অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজে জড়ানো থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদতের প্রতি অধিক মনোযোগী হতে সাহায্য করে।

লেখক ও গবেষক: রায়হান আল ইমরান।