যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নবায়ন না করায় রাশিয়ার তেল আমদানিতে ভারতের বড় ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার তেল আমদানিতে ভারতের সংকট

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নবায়ন না করায় রাশিয়ার তেল আমদানিতে ভারতের বড় ঝুঁকি

রাশিয়া ও ইরানের তেল আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৩০ দিনের ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতসহ কিছু দেশের জন্য বড় ধরণের অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের প্রধান সুবিধাভোগী ছিল ভারত

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের প্রধান সুবিধাভোগী ছিল ভারত। কারণ হরমুজ প্রণালির আশেপাশে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যেও রাশিয়ার তেল কেনা চালিয়ে যেতে পারছিল দিল্লি। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল তেল আমদানি করার জন্য অর্ডার দিয়েছে ভারত।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতীয় তেল শোধনকারী প্রতিষ্ঠান, যেমন রিলায়েন্স, রাশিয়ার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রসনেফট ও লুকওইলের কাছ থেকে তেল কিনেছিল। তবে এখন এই সুযোগ কার্যত ব্যহত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারির বক্তব্য

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, "আমরা রাশিয়ান তেলের ওপর দেওয়া সাধারণ লাইসেন্স নবায়ন করবো না এবং ইরানি তেলের ক্ষেত্রেও তা করবো না।" এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের তেল আমদানি নীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

এর আগে, গত ১১ মার্চ মার্কিন রাজস্ব দফতর জানিয়েছিল, ভারতের তেলশোধক সংস্থাগুলি সমুদ্রে ভাসমান রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কার থেকে তেল কিনতে পারবে। এর কয়েক দিন পরেই ইরানের তেল কেনার ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছিল। রাশিয়ার তেল কেনার মেয়াদ ছিল গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত, আর ইরানের তেল কেনার মেয়াদ ছিল ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভারতের জন্য সম্ভাব্য পরিণতি

এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ফলে ভারতের জন্য নিম্নলিখিত ঝুঁকিগুলো দেখা দিতে পারে:

  • তেল আমদানির খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে
  • জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে
  • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে
  • বৈদেশিক বাণিজ্য ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতকে এখন বিকল্প তেল সরবরাহকারী খুঁজে বের করতে হবে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা ত্বরান্বিত করতে হবে। এই সংকট মোকাবিলায় ভারত সরকারের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে।