বাংলাদেশের বাণিজ্য দক্ষতা উন্নয়নে ইউএনডিপির অঙ্গীকার
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ স্টিফান লিল্যার। একইসঙ্গে ট্রেড নেগোসিয়েশন দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের দৃঢ় অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের অফিসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে স্টিফান লিল্যার এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রপ্তানি মো. আবদুর রহিম খান এবং ইউএনডিপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ট্রেড নেগোসিয়েশন দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের দক্ষ ট্রেড নেগোসিয়েটর তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি ও আলোচনায় কার্যকরভাবে অংশগ্রহণের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ইউএনডিপির সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
ইউএনডিপির প্রস্তাবিত কর্মসূচি
স্টিফান লিল্যার বাংলাদেশের ট্রেড নেগোসিয়েশন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন:
- প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন
- কারিগরি সহায়তা প্রদান
- প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের উদ্যোগ
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, কর্মশালা এবং জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ট্রেড নেগোসিয়েশন দক্ষতা বাড়াতে ইউএনডিপি কাজ করতে প্রস্তুত।”
উভয়পক্ষের সম্মতির ক্ষেত্রসমূহ
বৈঠকে উভয়পক্ষ নিম্নলিখিত বিষয়ে একমত হন:
- বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহযোগিতা
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ
- এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখা
এই সম্মতির মাধ্যমে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



