গত সপ্তাহে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে টিকিয়ে রাখতে এই বিশাল অর্থ বছরের পর বছর ধরে নীরবেই নবায়ন করে আসছিল আবুধাবি। কিন্তু এই অর্থ হঠাৎ ফেরত নেওয়ার ঘটনাটি উপসাগরীয় অঞ্চলের আর্থিক কূটনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, নিঃশর্ত আর্থিক সহায়তার দিন এখন শেষ এবং তার বদলে এখন শর্তযুক্ত ও কৌশলগত স্বার্থবাদী সম্পর্কের দিকেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ খবর জানিয়েছে।
এই অর্থ প্রত্যাহারের সময়টিও বেশ অর্থপূর্ণ। কারণ ঠিক যখন আবুধাবি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বা আর্থিক সহায়তা প্রত্যাহার করে নিচ্ছিলো, তখনই সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান করাচির একটি ব্যাংক অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে এগিয়ে গেছে। এটি প্রমাণ করে যে, আবুধাবি এখন অনির্দিষ্টকালের জন্য সহায়তার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মতো একটি অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট কৌশল বেছে নিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব পাকিস্তানের যেকোনও ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে বিশ্বস্ত আর্থিক ঢাল হিসেবে কাজ করে এসেছে। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো দেওয়া এবং পরবর্তীতে নিয়মিতভাবে নবায়ন করা এই ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের আমানতটি ছিল সেই সহযোগিতারই একটি অন্যতম প্রধান অংশ। এটি আইএমএফ-এর শর্ত অনুযায়ী ইসলামাবাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহযোগিতা করছিল।
কিন্তু যখন ইরান যুদ্ধ শুরু হয়, তখন পাকিস্তান নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। কিন্তু এর পরপরই আবুধাবি তাদের এই সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য ইসলামাবাদকে অনুরোধ করে। এই আকস্মিক পদক্ষেপ ইসলামাবাদের জন্য বড় আঘাত হিসেবে দেখা দেয় এবং তারা বিকল্প উপায়ের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে। এমন সংকটে সৌদি আরব প্রথমে ৫ বিলিয়ন ডলার এবং পরে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার নিয়ে এগিয়ে আসে, যার ফলে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত আমিরাতের দেনা পরিশোধ করতে সক্ষম হয়।
কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত
আপাতদৃষ্টিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই পদক্ষেপটিকে তাদের নিজেদের আর্থিক বিবেচনার ফল বলে মনে করা যেতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি মুদ্রা বিনিময় চুক্তি সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টা। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অন্যান্য অনেক ঘটনা, যেমন আটকে থাকা বিনিয়োগ চুক্তি এবং পরিবর্তিত আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে তাকালে এটিকে কেবল আর্থিক বিষয় বলে মনে হয় না; বরং এর পেছনে রয়েছে এক গভীর কৌশলগত পরিবর্তনের রূপরেখা।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইসলামাবাদের বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা আউটসোর্সিং করার জন্য একটি প্রস্তাবিত চুক্তি আমিরাতের আগ্রহের অভাবে ভেস্তে যায়। এ ছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার অজুহাত দেখিয়ে পাকিস্তানের টেলিকম খাত থেকেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্ভাব্য প্রত্যাহারের গুঞ্জন উঠেছে।
এসব অর্থনৈতিক সংকেত এমন এক সময়ে এসেছে যখন উপসাগরীয় অঞ্চলের অভ্যন্তরে ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী ইরান সংকট এবং হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অস্থিরতা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে আবু ধাবি ও রিয়াদের বিদ্যমান মতপার্থক্যকে জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে ওপেক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাটকীয়ভাবে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি এই বিভাজনকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক
এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আবুধাবির কাছে ইসলামাবাদের ভাবমূর্তি বদলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইসলামাবাদ ও রিয়াদের মধ্যে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি (এসএমডিএ) স্বাক্ষর দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ককে এক আনুষ্ঠানিক রূপ দেয়। তবে একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক মেরুকরণের এক চরম মুহূর্তে পাকিস্তানের সুনির্দিষ্ট একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা দেয়। এই চুক্তিটি মূলত দোহায় ইরান ও ইসরায়েলের হামলার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে করা হলেও, এর বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রভাব এই তাৎক্ষণিক সংকটের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
ইসলামাবাদের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ জুনায়েদ জাভেদ সিদ্দিকী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সিদ্ধান্তটি আসলে একটি উন্মুক্ত আর্থিক সহায়তা থেকে স্বার্থ-চালিত সম্পর্কের দিকে রূপান্তরকে চিহ্নিত করে, যেখানে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, সৌদি আরবে পাকিস্তানের সেনা মোতায়েনসহ রিয়াদের সঙ্গে ইসলামাবাদের সামরিক সহযোগিতা একটি বড় ধরনের টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এর পাশাপাশি সৌদি আরবে হামলা না করার জন্য ইরানের প্রতি ইসলামাবাদের অনুরোধ ছিল আরেকটি সম্ভাব্য প্রভাবক।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট এই সংবেদনশীলতাকে আরও বাড়িয়েছে। ইরান যুদ্ধের সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুদ্ধবিরতি হওয়ার আগে আমিরাতের হোটেল, তেল অবকাঠামো ও বিমানবন্দরে অন্তত ২ হাজারের বেশি ইরানি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সিদ্দিকী বলেন, এমন এক পরিস্থিতিতে এসএমডিএ চুক্তিটি হয়তো অর্থ প্রত্যাহারের সরাসরি কারণ ছিল না, তবে এটি পাকিস্তানের প্রতি আমিরাতের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান-আমিরাত সম্পর্ক এখন এক ভঙ্গুর রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
প্রতিরক্ষা শিল্প পরামর্শক ও ডিজিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা হায়দার হুসেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই পদক্ষেপকে আরও খোলাখুলিভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, আবুধাবির টাকার খুব বেশি প্রয়োজন ছিল না। তাদের দরকার ছিল পাকিস্তান যেন যেকোনও একটি নির্দিষ্ট পক্ষ বেছে নেয়। এই ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার কোনও সাধারণ সাহায্য ছিল না, এটি ছিল একটি কৌশলগত অবস্থান। হুসেনের মতে, বিশেষ করে ইয়েমেনে সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্ব এই দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের কৌশলগত দূরত্ব তৈরি করেছে। যার প্রতিফলন কেবল আর্থিক সিদ্ধান্তে নয়, বরং ওপেকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার মধ্যেও দেখা গেছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের জন্য অর্থনৈতিক প্রবেশাধিকার বজায় থাকলেও তাদের কৌশলগত প্রবেশাধিকার, সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ, গোয়েন্দা তথ্য এবং দ্রুত রসদ সরবরাহের মতো ক্ষেত্রগুলোতে গুরুত্ব অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইমপ্যাক্ট রিসার্চ ইন্টারন্যাশনালের পাবলিক পলিসি অ্যাডভাইজার জুবায়ের ফয়সাল আব্বাসি আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতিতে এক ব্যাপক রদবদলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, টাকা ফেরত নেওয়ার মূল বীজটি লুকিয়ে ছিল ইসরায়েল ও ভারতের সঙ্গে আমিরাতের ক্রমবর্ধমান সখ্য এবং সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান দূরত্বের মাঝে। এমন এক প্রেক্ষাপটে রিয়াদের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং ইরানের প্রতি ইসলামাবাদের তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান এই অর্থ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে।
তবে এসব ঘটনাপ্রবাহের অর্থ এই নয় যে সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তান থেকে সম্পূর্ণ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বরং তারা এখন আরও সুনির্দিষ্ট ও বিনিয়োগ-মুখী মডেলের দিকে ঝুঁকছে। করাচির ফার্স্ট উইমেন ব্যাংক সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইভ হোল্ডিংস কর্তৃক অধিগ্রহণ করা এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গির এক অন্যতম উদাহরণ। সরাসরি নগদ টাকা দিয়ে সাহায্য করার পরিবর্তে আমিরাতের বিনিয়োগকারীরা এখন পাকিস্তানের অর্থনীতিতে নিজেদের মালিকানা এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাইছে।
জুনায়েদ জাভেদ সিদ্দিকী বলেন, এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে আমিরাত এখন ইকুইটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের দিকে যাচ্ছে, যা মালিকানা এবং কাঠামোগত সংশ্লিষ্টতার প্রতি তাদের আগ্রহকে তুলে ধরে। জুবায়ের ফয়সাল আব্বাসিও একইভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আবুধাবি যখন তার কূটনৈতিক পরিধি বাড়াচ্ছে, তখন পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক স্বার্থই প্রধান হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে তিনি ইসলামাবাদ বিমানবন্দর এবং ফৌজি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে চুক্তি থেকে আমিরাতের পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন যে, এর স্বল্প থেকে মাঝারি মেয়াদে কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যার মধ্যে রয়েছে ভিসা কড়াকড়ি।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব
হায়দার হুসেন আরও গভীর কাঠামোগত উদ্বেগের কথা তুলে ধরে বলেছেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি ধনীদের সম্পদ রাখার এক অন্যতম প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। এটি পাকিস্তানের মুদ্রাকে দুর্বল করেছে, দেশীয় বিনিয়োগকে সংকুচিত করেছে এবং আইএমএফ-এর ওপর নির্ভরতা আরও বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক টানাপড়েন সত্ত্বেও, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কের ভিত্তি এখনও অনেক গভীর ও মজবুত। ১৯৭১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম ছিল। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং উন্নয়নে ব্যাপক সহযোগিতা বজায় রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রাথমিক বিমান বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তৈরিতে পাকিস্তান এক কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিল। দেশটির প্রথম পাঁচজন বিমান বাহিনী প্রধানই ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি কর্মকর্তা। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রেও এই সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ১৯৮৫ সালে করাচি থেকে দুবাইয়ের মধ্যে প্রথম ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে এমিরেটস তাদের যাত্রা শুরু করেছিল এবং এখনও পর্যন্ত হাজার হাজার পাকিস্তানি নাগরিক এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কও অনেক বড়। বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। আর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত ১৯ লাখ প্রবাসী পাকিস্তানি প্রতি বছর প্রায় ৬ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়ে থাকেন। এর পাশাপাশি করাচি গেটওয়ে টার্মিনালসহ আবুধাবি পোর্টস গ্রুপ কর্তৃক বাস্তবায়িত বড় বড় যৌথ প্রকল্পগুলো এই অংশীদারত্বের গভীরতাকেই প্রমাণ করে।
এমনকি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকেও এই সম্পর্ক এক ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ছিল। আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদের ইসলামাবাদ সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে ব্যাংকিং, রেলওয়ে, খনি ও অবকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি; বরং এটি একটি নতুন বিন্যাস বা কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
লাহোরভিত্তিক ব্যারিস্টার আমির জাফর খান এই সম্পর্কের ঐতিহাসিক স্থিতিস্থাপকতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান-আমিরাত সম্পর্ক সবসময়ই কেবল ভূ-রাজনীতির ওপর নির্ভর করেনি; বরং এটি কয়েক দশকের যৌথ ইতিহাস, গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী পাকিস্তানিদের ওপর ভর করে গড়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, এই মজবুত ভিত্তির কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশেষ করে দুবাই এবং সামগ্রিকভাবে আমিরাত সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে নতুন করে বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে।
তবুও এই শর্তযুক্ত ও স্বার্থ-ভিত্তিক সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দেওয়ার অর্থ হলো সামনে এক জটিল পথ অপেক্ষা করছে। আব্বাসি যেমনটি বলেছেন, পাকিস্তানকে এখন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সুপরিকল্পিত কূটনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে, যাতে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিদ্যমান পারস্পরিক দ্বন্দ্বের মাঝে নিজেদের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। তবে তিনি, ‘এটি বলা যতটা সহজ, বাস্তবে করা ততটাই কঠিন।’



