আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো আসিয়ান ডিজিটাল ইকোনমি ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট (ডিইএফএ) সংক্রান্ত আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এর ফলে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে ঐতিহাসিক এই চুক্তি স্বাক্ষরের পথ সুগম হয়েছে।
আলোচনা সমাপ্তির ঘোষণা
রোববার এক বিবৃতিতে এ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়েছে মিনিস্ট্রি অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমটিআই)। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৭ থেকে ২৯ মে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৫৭তম আসিয়ান সিনিয়র ইকোনমিক অফিসিয়ালস মিটিংয়ের দ্বিতীয় বৈঠকে ডিইএফএ নিয়ে আলোচনার সমাপ্তি ঘটে।
ডিইএফএ-র মূল বৈশিষ্ট্য
এমটিআই জানায়, ডিজিটাল যুগের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিইএফএ একটি সমন্বিত, শক্তিশালী ও অভিন্ন ডিজিটাল নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এই কাঠামোর আওতায় প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফিনটেক এবং সোর্স কোড সুরক্ষার মতো উদীয়মান খাত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আসিয়ানের বিদ্যমান ডিজিটাল অর্থনীতি বিষয়ক অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এই চুক্তি একটি অভিন্ন নিয়ম ও কাঠামো প্রতিষ্ঠা করবে, যা ডিজিটাল বাণিজ্যকে সহজ করবে এবং সীমান্ত-পার ডিজিটাল লেনদেনকে আরও কার্যকর করবে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজীকরণ, নিরাপদ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতকরণ, ডিজিটাল পেমেন্ট ও ই-লেনদেনের উন্নয়ন, অনলাইন ভোক্তা সুরক্ষা জোরদার এবং আঞ্চলিক ডিজিটাল আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধি পাবে।
সিঙ্গাপুরের ভূমিকা
এমটিআই আরও জানায়, চুক্তিটিকে উচ্চমানসম্পন্ন ও বাণিজ্যিকভাবে অর্থবহ করতে সিঙ্গাপুর সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ডিইএফএ আলোচনা কমিটির চেয়ার হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য থাইল্যান্ডকে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে সদস্য রাষ্ট্রগুলো, আসিয়ান সচিবালয় এবং ব্যবসায়িক অংশীজনদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বিশ্লেষকদের মতামত
বিশ্লেষকদের মতে, ডিইএফএ কার্যকর হলে আসিয়ান অঞ্চলে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি, ই-কমার্স ও ডিজিটাল সেবা খাতে সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল বাজার হিসেবে আসিয়ানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।



